ভোতেকোশি নদীর বন্যায় রাসুয়া অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর সুড়ঙ্গের ভেতরে শ্রমিকরা আটকা পড়েছেন কিনা তা জানতে নেপাল সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে।
একজন নেপালি পর্বতারোহীর শেয়ার করা থার্মাল-ড্রোন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যাতে বন্যাকবলিত রাসুয়াগড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের ভেতরে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে দেখা যায়।
উদ্ধারকারী দলের সদস্য মনীশ মহারজন প্রকল্প থেকে ৯৩ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর নিজের ড্রোন দিয়ে সুড়ঙ্গটি স্ক্যান করেন। অনুসন্ধান সুড়ঙ্গের একেবারে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছালেও কোনো জীবিত ব্যক্তি বা মরদেহ পাওয়া যায়নি।
ভোতেকোশি নদীর বন্যায় রাসুয়া অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর সেখানে শ্রমিকরা আটকা পড়ে থাকতে পারেন এই আশঙ্কায় নেপাল সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন দলটি সুড়ঙ্গে প্রবেশ করেছিল।
ইনস্টাগ্রামে একটি আপডেট শেয়ার করে মহারজন জানান, দলটি সুড়ঙ্গের ভেতরে কোনো মরদেহের চিহ্ন খুঁজে পায়নি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যারা সুড়ঙ্গের আরও গভীরে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘‘এটি ধীরগতির বন্যা ছিল না, বরং প্রবল তীব্রতার বন্যা ছিল। পালানোর কোনো সময়ই ছিল না।’’
নেপাল সেনাবাহিনীর কর্মী, প্রকৌশলী এবং ড্রোন পরিচালকরা ব্যাপক অনুসন্ধান চালানোর পর সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, সুড়ঙ্গের প্রবেশযোগ্য অংশে কেউ নেই। এরপর অভিযানটি স্থগিত করা হয় এবং দলটি রাসুয়া জেলার ধুঞ্চেতে ফিরে যায়।
অন্যান্য সুড়ঙ্গেও চলছে অনুসন্ধান
রাসুয়াগড়ির এই অভিযানটি ছিল রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার ১১টি বন্যাকবলিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে নিখোঁজ হওয়া ৯৩৩ জন শ্রমিকের সন্ধানে চালানো বৃহত্তর অভিযানের একটি অংশ।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, অনেকেই কাদা, পানি ও ধ্বংসাবশেষে বন্ধ হয়ে যাওয়া সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন। ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নেপালের উদ্ধারকারী দলগুলো নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ, খননযন্ত্র এবং সার্চলাইট ব্যবহার করে প্রবেশপথ পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে। দুটি সুড়ঙ্গ থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যদিও আরও কয়েকটি অংশ এখনও কাদায় চাপা পড়ে আছে।
উদ্ধার তৎপরতা পাঁচটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আপার ত্রিশূলী কমপ্লেক্স, যেখানে কর্তৃপক্ষের মতে একটি সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় ৩৫০ জন আটকা থাকতে পারেন।
ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞ দলগুলোর পাশাপাশি প্রায় ১০,০০০ নেপালি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
হিমবাহ ধসের কারণে গত ২৬ আগস্টের আকস্মিক বন্যার পরই এই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়, যাতে ৯০০-এরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ৫,০০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









