নাটোরের গুরুদাসপুরে ধানুরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দের সরকারি নতুন ভবন ও টিনশেড ঘর বিনা টেন্ডারে ভেঙে বিক্রির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। এরই মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভবন ভেঙে বিক্রির দায় স্বীকার করে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোরের জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী হেলালী বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল বিদ্যালয় পরিদর্শন করে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নতুন নির্মিত বিজ্ঞান ভবনসহ কয়েকটি টিনশেড ঘর কোনো ধরনের উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই ভেঙে বিক্রি করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ভবন ও টিনশেড ঘরগুলো মাত্র ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রির কথা বলা হয়েছে। তবে বিক্রির অর্থ বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত ভবন ভেঙে বিক্রির মতো ঘটনায় শুধু প্রধান শিক্ষক একা জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাদের দাবি, বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হোক।
গুরুদাসপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, ‘‘প্রধান শিক্ষককে গত ৩০ আগস্ট ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি নোটিশের জবাব দিয়েছেন। জবাবে তিনি ভবন ভেঙে বিক্রি করার দায় স্বীকার করেছেন।’’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী হেলালী বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









