চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মো. করিম (৩৬) নামের এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানিহাট এলাকাসহ আশপাশের এলাকাজুড়েই আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
ক্রেতা ও স্থানীয় লোকজনের আনাগোনায় যেই বাজারটিতে সব সময় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর থাকতো সেই বাজারটিতে ভর করেছে শ্মশানের নীরবতা।অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেনা কেউ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালেও দেখা গেছে বাজারের বেশিরভাগ দোকান তালাবদ্ধ। কয়েকজন দোকান খুললেও কিছু বলতে রাজি হননি।
ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী ও পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এস কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী প্রত্যক্ষদর্শী ও বাজারের ব্যাবসায়ীদের সাথে কথা বলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার আশ্বাস দেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা পিআইবি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীসহ স্থানীয় ব্যাবসায়ীদের সাথে কথা বলেছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানিহাট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হন মোহাম্মদ করিম (৩৮) নামের এক যুবক।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর কেরানিহাট বাজারের প্রবেশমুখে আকস্মিক গুলির শব্দ শুনতে পান তারা। এ সময় পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির শব্দ থেমে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন কেরানিহাট বাজারের হৃদয় স্টোরের সামনে সড়কের ওপর করিমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন, রাউজান থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম। পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত করিমের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক কারবার, ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। মাদক সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় তিনি এর আগে কারাভোগও করেছিলেন। তার হত্যাকান্ডের পেছনে মাদক সংশ্লিষ্টতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা জানান, ঘটনার পর থেকেই কেরানিহাট বাজারের অর্ধশতাধিক ব্যাবসায়ীরা আতংকে আছেন। বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট এখনো বন্ধ আছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









