বর্ণাঢ্য আয়োজন, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পালিত হচ্ছে জন্মাষ্টমী।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় মন্দির শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি থেকে এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এ সময় পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।
র্যালিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ রং-বেরঙের পোশাক ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অংশ নেন।
র্যালিতে অংশ নেওয়া রিমা ঘোষ ও জয়িতা পাল বলেন, ‘‘দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মানব অবতার হিসেবে আবির্ভূত হন। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের উদ্দেশ্যে তার আগমন হয়েছিল। তাই দিনটি তাদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র।’’ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে তারা উপবাস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করবেন বলেও জানান।
পুরোহিত প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, ‘‘দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথির রোহিণী নক্ষত্রে বাসুদেব-দেবকীর কোলে কংসের কারাগারে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। দুরাচারীদের দমন ও সজ্জনদের রক্ষার মধ্যে দিয়েই এই তিথির মূল তাৎপর্য নিহিত।’’ তিনি দেশের সকল মানুষের মঙ্গল ও শান্তি কামনা করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে র্যালি উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
তিনি বলেন, ‘‘ধর্ম যার যার, দেশটা সবার। এই দেশে সবার সমান অধিকার রয়েছে।’’ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে তিনি আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
মানবতার প্রত্যয় নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি সেই মানবতাবোধ সবার মধ্যে জাগ্রত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়কে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, পৌরসভার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. পি বি রায় সুপ্রিয়, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এদিকে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন মন্দিরে ধর্মীয় নানা আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









