সৌরজগতের বাইরে গ্রহের সন্ধান মিলেছে ৬ হাজারের বেশি। কিন্তু এসব গ্রহের কোনো একটিকে প্রদক্ষিণ করা চাঁদের অস্তিত্ব এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি। এবার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমন একটি মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন, যাকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী এক্সোমুন বা সৌরজগতের বাইরের চাঁদের প্রার্থী বলা হচ্ছে।
চিলিতে ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির (ইএসও) ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ (ভিএলটি) দিয়ে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘ন্যাচার’ সাময়িকীতে।
নতুন এই বস্তুটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৭১ আলোকবর্ষ দূরে থাকা CD-35 2722 নক্ষত্রব্যবস্থায় রয়েছে। তবে এটি সরাসরি নক্ষত্রটিকে প্রদক্ষিণ করছে না। প্রথমে নক্ষত্রটিকে প্রদক্ষিণ করছে একটি বাদামি বামন। আর নতুন বস্তুটি প্রদক্ষিণ করছে সেই বাদামি বামনকে।
বাদামি বামন হলো গ্রহের চেয়ে বড়, কিন্তু নক্ষত্রের মতো পারমাণবিক বিক্রিয়া চালানোর জন্য যথেষ্ট ভর নেই—অনেক সময় যাকে ‘ব্যর্থ নক্ষত্র’ বলা হয়। এই বাদামি বামনের ভর বৃহস্পতির ৩০ গুণেরও বেশি। অন্যদিকে নতুন বস্তুটির ভর অন্তত বৃহস্পতির প্রায় ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ এটি আমাদের চাঁদের মতো ছোট পাথুরে জগত নয়; বরং নিজেই একটি বিশাল গ্যাসীয় জগত।
কীভাবে পাওয়া গেল?
বিজ্ঞানীরা বস্তুটিকে সরাসরি দেখেননি। তারা বাদামি বামনের গতিতে খুব সূক্ষ্ম ‘দুলুনি’ খুঁজেছেন। কোনো বড় বস্তু তাকে প্রদক্ষিণ করলে তার মহাকর্ষের টানে এমন দুলুনি তৈরি হয়। এই রেডিয়াল ভেলোসিটি পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা প্রায় ১৭০ দিনের একটি নিয়মিত সংকেত পান। তা থেকেই নতুন বস্তুটির অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে।
তবে এটিকে এখনই নিশ্চিতভাবে ‘চাঁদ’ বলা যাচ্ছে না। কারণ এটি কোনো গ্রহকে নয়, একটি বাদামি বামনকে প্রদক্ষিণ করছে। তার ওপর এর ভর গ্রহের মতো বড়। তাই গবেষকেরা আপাতত একে এক্সোস্যাটেলাইট বা সৌরজগতের বাইরের উপগ্রহ বলছেন।
এই আবিষ্কার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে—গ্রহ, চাঁদ ও নক্ষত্রের মাঝের সীমারেখা আসলে কতটা স্পষ্ট? মহাবিশ্বের আরও গভীরে তাকালে হয়তো এমন আরও অদ্ভুত জগতের সন্ধান মিলবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









