‘মির্জাপুর’ মানেই গুলি, গালি, ক্ষমতার লড়াই, বিশ্বাসঘাতকতা আর ভয় দেখানো দাপট। ওটিটিতে তিনটি সফল মৌসুমের পর এবার সেই পরিচিত জগৎ হাজির হয়েছে বড় পর্দায়। ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ দর্শকদের পুরোনো চরিত্র ও পরিচিত বিশৃঙ্খলার স্বাদ দেয় ঠিকই, তবে ছবিটির সবচেয়ে বড় সমস্যা—এটি কখন থামতে হবে, তা যেন জানে না।
পুনীত কৃষ্ণের লেখা ও গুরমিত সিংয়ের পরিচালনায় ছবিটি মূল গল্পের সরাসরি পরবর্তী কাহিনি নয়। বরং প্রথম মৌসুমের ঘটনাগুলোর পাশাপাশি চলা একটি গল্প। ফলে শোতে মারা যাওয়া কিছু চরিত্রকেও আবার পর্দায় দেখা যায়। সুইটি, মুন্না ও বাবলু ফিরে এসেছে। তবে বাবলু চরিত্রে এবার অভিনয় করেছেন জিতেন্দ্র কুমার।
মির্জাপুরের সিংহাসনই এখনও ক্ষমতার মূল প্রতীক। যে এই সিংহাসনে বসবে, সে পূর্বাঞ্চলের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বন্দুক ও ক্ষমতার লড়াইয়ের পাশাপাশি চরিত্রগুলোর সম্পর্কই ছবির আসল শক্তি। গুড্ডু ও মুন্নার দ্বন্দ্ব এখনও সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ। আলি ফজল ও দিব্যেন্দু শর্মা পুরোনো ভূমিকায় অনায়াস। দুজনের মধ্যে প্রতিযোগিতা, রাগ, ঈর্ষা এবং বাবাদের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা গল্পে প্রাণ যোগ করেছে।
গুড্ডুর বিপরীতে বাবলু হলো বুদ্ধির প্রতীক। আর পঙ্কজ ত্রিপাঠির কালীন ভাইয়া আগের মতোই অল্প কথা ও একটি দৃষ্টিতেই ভয় ধরিয়ে দেন। রবি কিশনের অভিনয়ও নজর কাড়ে। তাঁর চরিত্রে যেমন ভয়ংকর খলনায়কের ছাপ আছে, তেমনি রয়েছে প্রেমের মজার দিক।
রসিকা দুগালের বীনা চরিত্রটিও এবার বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁকে শুধু একটি পার্শ্বচরিত্র হিসেবে না রেখে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া একজন শক্তিশালী নারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে অন্য নারী চরিত্রগুলোর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম।
ছবির হাস্যরস ও অ্যাকশন বেশ ভালো। রাজস্থানের দৃশ্যগুলোও দারুণ সুন্দর। গান ও র্যাপ ছবির দাপুটে পরিবেশকে আরও বাড়িয়েছে। পরিচিত সংলাপ এবং চমকপ্রদ ক্লাইম্যাক্সও দর্শকদের আনন্দ দেবে।
তবে সমস্যা হলো ছবিতে গল্প ও চরিত্রের সংখ্যা বেশি। ওটিটির দীর্ঘ পর্বে যে ধীরগতির গল্প বলা সহজ, বড় পর্দায় তা সবসময় কার্যকর হয় না। অনেক দৃশ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ মনে হয়েছে। শেষের দিকের কিছু অ্যাকশন দৃশ্যও জোর করে যোগ করা হয়েছে বলে মনে হয়।
সব মিলিয়ে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ ভক্তদের হতাশ করবে না। এতে পুরোনো সেই রক্ত, রাগ, হাসি ও দাপট সবই আছে। শুধু ছবিটি যদি কিছু


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









