বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে চুলার আগুন থেকে অসাবধানতাবশত সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ।বাড়িটাআলেয়া বেগমের নিজের ছিল না। ছিল ভাইয়ের। তবু সেই বাড়িটাকেই নিজের ভেবেছিলেন তিনি। নিজের বলতে তো আর তেমন কিছু ছিল না তার। ভাই লতিফ খান পরিবার নিয়ে খুলনায় থাকেন। তাই গ্রামের বাড়িটা পড়ে থাকেনি—সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন আলেয়া। ঘর দেখতেন, উঠোন ঝাড়ু দিতেন, রান্না করতেন। দিনের শেষে সেই ছোট্ট ঘরটিই ছিল তার পৃথিবী। আগুনে পুড়ে মুহূর্তে সব শেষ হয়ে গেল।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতেও অন্য দিনের মতোই চুলায় রান্না বসেছিল। সন্ধ্যার পর রান্নাঘরের চুলায় তরকারি গরম করেছিলেন আলেয়া বেগম। তারপর কোনো কিছু বুঝে উঠার আগে মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ল। কে জানে, অসাবধনতায় চুলার আগুন একটু বেশিই জ্বলে উঠেছিল। হয়তো খেয়াল করার মতো সুযোগই পাননি তিনি। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে রান্নাঘর থেকে বসতঘরে।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের সেই বাড়িতে তখন আর কিছু করার ছিল না। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পাশের রাজু মার্কেটে থাকা লোকজন ছুটে আসেন। সবাই মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
পুড়ে গেছে রান্নাঘর। পুড়ে গেছে বসতঘর। ঘরের ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় মালামালও আগুনের সঙ্গে মিশে গেছে ছাইয়ে।
আর সেই ছাইয়ের মধ্যে পড়ে আছে আলেয়া বেগমের ছোট ছোট স্বপ্নগুলো।
আলেয়ার ভাইপো মাসুম খান বলেন, তার চাচা লতিফ খান পরিবার নিয়ে খুলনায় থাকেন। তাই তার ফুফু আলেয়া ওই বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বাড়িটি দেখাশোনা করতেন। সন্ধ্যার পর রান্নাঘরের চুলায় তরকারি গরম করেছিলেন তিনি। অসাবধানতাবশত ওই চুলার আগুন থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
মাসুম জানান, আগুন লাগার পরপরই পাশের রাজু মার্কেটের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর মধ্যেই রান্নাঘর ও বসতঘরে থাকা মালামাল পুড়ে যায়। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম বলেন, ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া আলেয়া বেগমের সর্বস্ব পুড়ে গেছে। এখন তিনি অনেকটাই নিঃস্ব। সমাজের সহৃদয় মানুষ তার পাশে দাঁড়ালে হয়তো আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
আগুন নিভে গেছে। ধোঁয়াও হয়তো আর নেই। কিন্তু আলেয়ার জীবনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা এত সহজে নিভবে না।
যে ঘরটাকে নিজের ভেবে এতদিন আগলে রেখেছিলেন, সেই ঘর এখন শুধু পোড়া কাঠ আর ছাইয়ের স্মৃতি। সেখানে হয়তো আবার কোনোদিন চুলা জ্বলবে, রান্নার গন্ধ উঠবে। কিন্তু সেই রাতের আগুন আলেয়ার মনে যে দাগ রেখে গেছে, তা মুছে যেতে সময় লাগবে অনেক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









