দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর ভবিষ্যতে শিক্ষকদের জন্য বিচার বিভাগের মতো পৃথক পে-স্কেল চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রথম স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রায় ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল হতে যাচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে প্রত্যাশিত মাত্রায় সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভায়ও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে নতুন পে-স্কেলের যথাযথ সমন্বয় একবারে করা সম্ভব না হলেও ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে বিচার বিভাগের মতো শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে-স্কেল চালুর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।
এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বিচার বিভাগে যেভাবে পৃথক পে-স্কেল রয়েছে, একইভাবে শিক্ষকদের জন্যও একটি পৃথক পে-স্কেলের কথা আমরা ভাবছি।’ তবে অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ধীরে ধীরে সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানান মন্ত্রী।
শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও ভোগান্তির বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের বিষয়ে ইতোমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপকে তিনি ‘যুগান্তকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ২০২১ সাল থেকে শিক্ষকদের বকেয়া নিজস্ব কন্ট্রিবিউশনের অংশ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যে অংশ বাকি রয়েছে, তা সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বাজেটগুলো পাওয়া গেলে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক এবং বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









