রংপুর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের সাবেক জেলা সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা অভিযোগ করেছেন যে, তার ভোটে ভোট প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে তিনি পথসভা ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন, যার ফলে এলাকায় উত্তেজনা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মহাসচিব আখতার হোসেনের সঙ্গে নির্বাচনে প্রায় ১০ হাজার ভোটে হেরে যান এমদাদুল হক।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুবুল হোসেন খান বলেন, ‘একটি নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ভোটারদের আস্থা যেখানে গণতন্ত্রের ভিত্তি, সেখানে ভোটের প্রতীক বা প্রার্থীর পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি বা কারচুপির অভিযোগ উঠলে তা শুধু একটি আসনের ফলাফল নয়, পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ অবশ্যই নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে হওয়া উচিত। অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সড়ক অবরোধ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায় এবং পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিবাদের অধিকার যেমন স্বীকৃত, তেমনি জনজীবন অচল না করে তা প্রকাশের দায়িত্বও রাজনৈতিক নেতাদের রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, রংপুর-৪ আসনের এই ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয়—নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে দ্রুত সংশোধন জরুরি; আর যদি না হয়, তবে বিভ্রান্তি দূর করতে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা অপরিহার্য। কারণ গণতন্ত্রে ফলাফলের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—ফলাফলকে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









