সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জন দস্যু ১৩টি আগ্নয়াস্ত্র এবং বিভিন্ন ধরণের ৬৭৬ রাউণ্ড গোলাবরুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) ও আজিজুর রহমান (৪৫)। এদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার রামপাল, খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এবং সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায়।
গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পূর্ব সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় আত্মসমর্পণ করেন তারা।
মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন বলেন, ‘‘কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। একারণে নিজেদের জীবন রক্ষায় আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয় দস্যুরা। এর আগে কয়েক দফায় বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর ৯৬ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এ নিয়ে চলতি বছরে আত্মসমর্পণ করেছেন ১০৮ জন বনদস্যু। এছাড়া নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে আরও ২৯ জন দস্যুকে। দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জন বনজীবীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।’’
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। সুন্দরবনে এখনো যেসব দস্যু বাহিনী সক্রিয় বা আত্মগোপনে রয়েছেন, তাদেরকেও অপরাধ কর্মকাণ্ড ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহবান জানানো হয়েছে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে।
জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









