ব্রিকস সম্মেলনকে সামনে রেখে রাজধানী দিল্লিতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে, আর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জন্যও রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হোটেলের কর্মীদের পরিচয় যাচাই থেকে শুরু করে চলাচলের রুট বারবার মহড়া দিয়ে ঠিক করা—কোনো কিছুই বাদ রাখা হয়নি। হোটেল ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা, কমান্ডো এবং আধা-সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা।
সংবাদ অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ১১ সেপ্টেম্বর এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয় ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দুই নেতার হোটেল ও চলাচলের রুট রাখা হয়েছে কড়া নজরদারির আওতায়।
পুতিনের জন্য মৌর্য হোটেল যেন এক দুর্গ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের অবস্থানের জন্য মৌর্য হোটেলকে একপ্রকার দুর্ভেদ্য দুর্গে রূপান্তরিত করা হয়েছে। তার নিরাপত্তার জন্য চার স্তরের ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
প্রথম স্তরে থাকবে ‘ক্লোজ প্রোটেকশন টিম’ (সিপিটি), যারা সার্বক্ষণিক পুতিনের সঙ্গে থেকে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। দ্বিতীয় স্তর অর্থাৎ ভেতরের নিরাপত্তা বলয়ে থাকবেন দিল্লি পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা। তৃতীয় বা মাঝের স্তরে থাকবে দিল্লি পুলিশের কমান্ডো এবং আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। আর সবচেয়ে বাইরের স্তরের দায়িত্বে থাকবে স্থানীয় পুলিশ, যারা হোটেলের বাইরে এবং আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যায় মোতায়েন থাকবে।
পুতিনের নিজস্ব নিরাপত্তা বলয়ও থাকছে
পুতিনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক থাকবে তার নিজস্ব নিরাপত্তা দলও। জানা গেছে, তার চলাফেরার সময় ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন কমান্ডো ও নিরাপত্তারক্ষী তার সঙ্গে থাকবেন।
বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের থাকার হোটেলগুলোর নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পদস্থ কর্মকর্তাদের। ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে আসা রাষ্ট্রপ্রধানদের হোটেলগুলোতে নেওয়া হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যার সামগ্রিক তদারকি করবেন স্পেশাল সিপি (ক্রাইম) পদমর্যাদার পদস্থ কর্মকর্তারা। ভারত মণ্ডপমে দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নেতৃত্বে থাকবেন স্পেশাল সিপি (স্পেশাল সেল)।
দিল্লি পুলিশ, কমান্ডো ও আধা-সামরিক বাহিনীর মোতায়েনের পাশাপাশি হোটেলমুখী রাস্তাগুলোতেও চলবে বিশেষ নজরদারি। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে গোটা দিল্লিকে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে, প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে রয়েছেন একজন করে ডিসিপি বা অতিরিক্ত ডিসিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
পুতিন ও শি জিনপিংয়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ১১ সেপ্টেম্বর এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লি পৌঁছানোর কথা। পালাম বিমানবন্দরে অবতরণের পর দুই রাষ্ট্রপ্রধানই যথাক্রমে মৌর্য ও তাজ হোটেলে যাবেন বলে ঠিক হয়েছে।
দুই দেশের বিশেষ নিরাপত্তা দল ইতিমধ্যে দিল্লিতে পৌঁছে নিজ নিজ হোটেলের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাচ্ছে। এই বিদেশি নিরাপত্তা দলগুলোর কাছে রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম। রাষ্ট্রপ্রধানরা যে তলায় অবস্থান করবেন, সেখান থেকে শুরু করে হোটেলের ছাদ এবং নিচতলা পর্যন্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলকে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট যে হোটেলে থাকবেন, সেখানে বিভিন্ন শিফটে এক অতিরিক্ত ডিসিপি এবং দুই এসিপি মোতায়েন রাখা হয়েছে।
হোটেল কর্মীদেরও পরিচয় যাচাই
সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলোর প্রতিটি কর্মীর পরিচয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখেছে। দিল্লিতে তাদের নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি তাদের নিজ নিজ রাজ্যেও তথ্য যাচাই করা হয়েছে।
ভারত মণ্ডপমে পৌঁছানোর সময়ও নির্ধারিত
পুতিন ও শি জিনপিংয়ের কনভয় হবে সবচেয়ে বড়গুলোর অন্যতম। বিদেশি অতিথিদের ভারত মণ্ডপমে যাতায়াতের রুট চূড়ান্ত করেছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ। নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করতে ইতিমধ্যে একাধিকবার রুট মহড়াও চালানো হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে হোটেল এবং হোটেল থেকে ভারত মণ্ডপম পর্যন্ত পুরো রুটজুড়ে নিরাপত্তা ও যান চলাচল ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









