পটুয়াখালীর বাউফলে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ায় মরিয়ম (১৩) নামে এক কিশোরীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তার দাদা ও চাচার বিরুদ্ধে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে ওই কিশোরীকে অমানবিকভাবে মারধর করতে দেখা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরিয়ম উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ছোটডালিমা গ্রামের বাবুল হাওলাদারের মেয়ে। তার বাবা ঢাকায় একটি প্লেন সিটের দোকানে চাকরি করেন। প্রায় ১৫ বছর সংসার করার পর দুই মাস আগে মরিয়মের বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
সম্প্রতি মরিয়ম শহরের ‘রান্নাঘর’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করে। বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা জানতে পারার পর ক্ষুব্ধ হয়ে তার দাদা আব্দুল হাকিম মৃধা ও চাচা ছালাম তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কিশোরীকে নির্যাতনের দৃশ্য দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মরিয়ম আক্তার বলেন, ‘‘বাসায় না বলে আমি আমার বান্ধবীর বাসায় গিয়েছিলাম।এ কারণে আমাকে মারধর করা হয়। মায়ের সঙ্গে দেখা করায় মারধর করেছে এমন কোন বিষয় নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি আজ থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস আগের। আগামীকাল আমার মাকে নিয়ে একটি সালিশি ছিল। আমার চাচা ও দাদাকে ফাঁসানোর জন্য এই ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
ভুক্তভোগী মরিয়মের মা লাভলী বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে দেখা করার কারণে আমার মেয়ে মরিয়মকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমার মেয়েকে ভয় দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করানো হয়েছে। আমার মেয়ে তার বাবার বাড়িতে থাকে। ভয়ের কারণে সে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। যেহেতু সে তার বাবার সঙ্গে থাকে, তাদের কথা না শুনলে তাকে নির্যাতন করা হবে—এমন ভয় দেখানো হয়েছে।’’
তিনি আরও জানান, এমন নির্মমতার কি কোনো বিচার হবে না? আমি ও আমার স্বামী বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর একটি মামলা চলমান রয়েছে। সেখানে আমার মেয়েকে বলা হয়েছে, ‘তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে কেন দেখা করতে গেলে? মেয়ে যদি আমার পক্ষে থাকে, তাহলে মামলায় জিততে পারবে না।’ এ কারণে আমার মেয়েকে ভয় দেখিয়ে মারধর করা হয়েছে।
মরিয়মের মা লাভলী জানান, এমনকি আমার সঙ্গে দেখা করার কারণে আমার মেয়েকে পরীক্ষা দিতেও দেওয়া হয়নি। যে ভিডিওটি দেখেছেন, সেটি ৮ মাস আগের ভিডিও নয়; এটি এক মাস আগের ঘটনা। গতকাল একজন আমাকে এই ভিডিওটি দেখায়। ভিডিওটি দেখে আমি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। আমার মেয়েকে এভাবে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজ দেখে ইতোমধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









