দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের বিভক্তির অবসান ঘটিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এক প্ল্যাটফর্মে ফিরছে গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব। প্রতিষ্ঠার প্রায় ৩২ বছর পর দীর্ঘদিনের বিরোধ ও বিভক্তি নিরসন করে এবার নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর গোলাপগঞ্জের ধারাবহর একমাইলে অবস্থিত প্রেসক্লাব ভবনে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন।
১৯৯৪ সালে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত সংবাদকর্মীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব। প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে সংগঠনটির কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চললেও কয়েক বছর পর অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে প্রেসক্লাবটি দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে দুটি প্যানেল পৃথকভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
এর আগে ২০০৯ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সভায় দুই পক্ষের মধ্যে ঐক্যের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি হয়েছিল। তবে নানা কারণে সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে একই নামে দুটি ধারার কার্যক্রম চলতে থাকে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার সেই বিভক্তির অবসান ঘটেছে। গত কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমে সমঝোতার পথ তৈরি হয়। প্রায় তিন মাসে কয়েক দফা বৈঠকের পর উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছে এক প্ল্যাটফর্মে এসে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রেসক্লাবের দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন প্রেসক্লাবের ভূমি ও ভবনের দাতা প্রবাসী সাংবাদিক আনোয়ার শাহজাহান এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য অ্যাডভোকেট দেলওয়ার হোসেন দিলু। পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল আহাদ, মাহফুজ আহমদ চৌধুরী, এম আব্দুল জলিল, শহীদুর রহমান সুহেদ, মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, এনামুল হক এনাম, আব্দুল কুদ্দুছ, ইমরান আহমদসহ আরও অনেকে ঐক্য প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন।
এছাড়া গোলাপগঞ্জের সাংবাদিকদের বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গোলাপগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি বদরুল আলম, সহ-সভাপতি মো. শাহ আলম ও সহ-সভাপতি দেলওয়ার হোসাইন মাহমুদের অক্লান্ত প্রচেষ্টাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের ধারাবাহিক উদ্যোগ, আলোচনা ও সমন্বয়ের ফলে দীর্ঘদিনের বিভক্ত সাংবাদিক সমাজকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনার পথ সুগম হয়।
ঐকমত্যের পর দুই পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। গত ১০ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করে। পরে গত মঙ্গলবার রাত ৮টায় কর্মরত সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট দেলওয়ার হোসেন দিলু।
তফশিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও প্রকাশ করা হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশনের অপর সদস্য আনোয়ার শাহজাহান, আবুল কালাম ও শহীদুর রহমান সুহেদ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত মোট ৮৪ জন সাংবাদিক সদস্য স্থান পেয়েছেন। প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির মোট ১৭টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর দুই ধারার সাংবাদিকরা একই প্ল্যাটফর্মে এসে নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পাওয়ায় বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন কমিশনাররা জানিয়েছেন, গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সিলেটের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের নির্বাচন পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বিভক্তি পেছনে ফেলে এই ঐক্য শুধু গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করবে না, বরং স্থানীয় সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করবে। আগামী দিনের সাংবাদিকতায় একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সংশ্লিষ্টদের।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









