কক্সবাজারের মহেশখালীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি নীতিগত সহায়তা, নেট-মিটারিং সুবিধা সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মহেশখালী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘জ্বালানির জন-মালিকানা ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর’ শীর্ষক স্থানীয় নীতি সংলাপে এসব দাবি উঠে আসে।
জেটনেট-বিডি, পিপলস কমিশন মহেশখালী, মহেশখালী জনসুরক্ষা মঞ্চ ও সংশপ্তকের যৌথ উদ্যোগে এবং একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেটনেট-বিডির সদস্য সচিব ও একশনএইড বাংলাদেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন কর্মসূচির ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে কক্সবাজার-২ আসনে সৌরবিদ্যুৎ, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম অলীম বড়ুয়া বলেন, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এখনও আশানুরূপ নয়। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নেট-মিটারিং সুবিধা আরও সহজলভ্য ও সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন।
সাবেক ইউপি সদস্য মো. হামিদ হাসান বলেন, মাতারবাড়িতে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে স্থানীয় অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ভূমির মূল্যায়নেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের অংশ হিসেবে এসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মহেশখালীতে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বিউটি জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের নতুন সুযোগগুলোতে নারীদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সংলাপে বক্তারা জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন থেকে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তর, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
আয়োজকরা জানান, সংলাপে উঠে আসা সুপারিশ ও নাগরিকদের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যসহ নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









