যেকোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথিরা। তাদের ওপর সামরিক অভিযান চালানো হলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
শনিবার আল-জাজিরা অনলাইন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
হুথিদের এমন হুমকির মধ্যেই শুক্রবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে গোষ্ঠীটি। বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবস্থিত এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত হয়েছে।
হুথিরা জানিয়েছে, আপাতত সৌদি জাহাজগুলোকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না। তবে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপ নিলে প্রণালিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়েও তারা পিছপা হবে না।
এর আগে আনসারুল্লাহ হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছিল। এর ফলে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর লোহিত সাগর দিয়ে চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।
ওই সময় ইয়েমেনের স্থলভাগের প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের পাহাড়ের চূড়া থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। এসব ক্ষেপণাস্ত্র লোহিত সাগরে থাকা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। এতে দেখা যায়, সমুদ্রপথে কার্যকর অবরোধ গড়ে তুলতে বাব আল-মান্দেব এলাকায় হুথিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা সার্বক্ষণিক উপস্থিতি থাকা অপরিহার্য নয়।
বর্তমানে পরিস্থিতি আরও বদলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুথিরা বাব আল-মান্দেব থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের পরিবর্তে উপকূলীয় এলাকা থেকে স্বল্পপাল্লার জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘ড্রোন বোট’ ব্যবহার করে সৌদি জাহাজ ও ট্যাংকারে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে।
এ ছাড়া বাব আল-মান্দেবের উত্তরে অবস্থিত হানিশ দ্বীপপুঞ্জের ওপরও হুথিদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব দ্বীপ জলপথের চেকপয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। ফলে লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নজরদারি এবং রাডারভিত্তিক পর্যবেক্ষণে হুথিদের সক্ষমতা বেড়েছে।
হানিশ দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান কাজে লাগিয়ে পূর্ব এশিয়া, ভারত মহাসাগর, আরব সাগর ও এডেন উপসাগর থেকে আসা জাহাজগুলোর ওপরও নজরদারি চালানো সম্ভব হচ্ছে। কৌশলগত এই অবস্থান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগে হুথিদের জন্য এমন বিস্তৃত নজরদারি চালানো তুলনামূলকভাবে কঠিন ছিল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









