সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে বালুবোঝাই বলগেট ডুবির ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান। তবে বর্ষার উত্তাল নদী ও তীব্র স্রোতের কারণে নিখোঁজ দুই শ্রমিকের সন্ধান মেলেনি এখনও। উদ্ধার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় চারজন শ্রমিকসহ বালুবোঝাই বলগেটটি নদীতে ডুবে যায়। ঘটনার পরপরই ২ জন শ্রমিক সাঁতরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ফয়সাল (১৯) ও ইঞ্জিন মিস্ত্রী মোরশেদ (২৫) পানির নিচে তলিয়ে যান।
নিখোঁজ ফয়সাল চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার কাশিম নগর গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে এবং মোরশেদ নোয়াখালী জেলার মাইজদী উপজেলার আন্তার চরের লোকমান হোসেন মৃধার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, খবর পাওয়ার পরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে বর্ষায় নদীতে প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিজল থাকায় পানির নিচে ডুবুরিদের নামা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও কঠিন হয়ে পড়ে।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিনভর নিখোঁজদের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর সোমবার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিস ফের দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপপরিচালক শরীফুল ইসলাম জানান, উত্তাল নদী ও তীব্র স্রোতের কারণেই মূলতঃ এই বলগেট ডুবির ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনাকবলে পড়ার সময় নিখোঁজ দুই শ্রমিক বলগেটের ইঞ্জিন রুমের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। তবে পানির প্রবল টানের কারণে ডুবুরিরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না। বলগেটের ভেতরের বালু সরিয়ে যানটি ওপরে তুলে আনার চেষ্টা চলছে। বালু সরানো সম্ভব হলে যানটি তোলা সহজ হবে এবং নিখোঁজদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, নিখোঁজদের উদ্ধারে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং আজই কোনো একটি সমাধান পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









