দেশের অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর এবং তাদের ঘুষ ও চরম লুটপাটের ফলেই বর্তমানে জনজীবনে তীব্র নাভিশ্বাস উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিগত সরকারের আমলে প্রশাসনে যে অনিয়ম ও চুরির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
রোববার বিকেলে ভোলার লালমোহনে নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে স্পিকার বলেন, দীর্ঘ শাসনকালে দেশটি পুরোপুরি লুণ্ঠিত হয়েছে। বিদেশি সাহায্যের অর্থ থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ পর্যন্ত চুরি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনে অপরাধীদের বিচার হলেও বাংলাদেশে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। দেশে দিনের পর দিন অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়েও মানুষ বিচার পায় না। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাবেক সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা দেশের বিপুল সম্পদ বিদেশে পাচার করে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। উদাহরণ হিসেবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, লন্ডনেই তাঁর ৩৬০টি বাড়ি ছাড়াও দুবাই ও আমেরিকায় অগাধ সম্পদ রয়েছে—যা মূলত জনগণের লুণ্ঠিত অর্থ। এখনো প্রশাসনে তাদের দোসররা বহাল থাকায় অপকর্মের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি জনগণের সামনে আসছে না।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের দ্বিপক্ষীয় নীতির সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশকে একটি করদ রাজ্য বানিয়ে রাখতে চেয়েছিল এবং বিগত সরকার ১৬-১৭ বছর ধরে দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তাদের স্বার্থ রক্ষা করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় জাহাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশীয় ব্যবসায়ীদের মারাত্মক ক্ষতি করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় সীমান্ত হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং নিজেদের ভাগ্য গড়তে বিগত সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ অন্যের হাতে তুলে দিয়েছিল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









