আবেদন জমা পড়ে আছে মাস পেরিয়ে গেলেও মেলেনি নিস্তার। বরিশাল সদর উপজেলার বিএম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ৩০ দিনেরও বেশি সময় ধরে আটকে রয়েছে ৩১টি নামজারি এবং ১১টি হোল্ডিং আবেদন। হঠাৎ অভিযানে গিয়ে সসেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির এই চাক্ষুষ প্রমাণ পেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। চরম দায়িত্বে অবহেলার দায়ে কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় বিএম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ওবায়দুল্লাহ। পরিদর্শনের সময় দপ্তরের নথিপত্র ও অনলাইনে জমাকৃত আবেদন পর্যালোচনায় দীর্ঘদিন ধরে ফাইলগুলো পড়ে থাকার সত্যতা মেলে।
অভিযোগের তীর ওঠায় বিএম ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা শিপন ভাবুক এবং ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে এই শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ দিন ধরে নামজারি ও হোল্ডিং আবেদন নিষ্পত্তি না করায় সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এতে করে সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কেন তাদের এই আচরণকে সরকারি কর্তব্যে চরম অবহেলা হিসেবে গণ্য করা হবে না, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনসেবায় কোনো ধরণের ঢিলেঢালা ভাব সহ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, ভূমি সেবার সাথে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন ও নাগরিক অধিকার সরাসরি যুক্ত। অযৌক্তিকভাবে কোনো আবেদন পেন্ডিং বা ফেলে রাখা যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামজারি, হোল্ডিংসহ যাবতীয় সেবা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, প্রশাসনিক কাজে অসচ্ছতা, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা জনভোগান্তির প্রমাণ পেলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভূমি সেবা দ্রুত ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসনের এই ঝটিকা পরিদর্শন ও তদারকি অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









