কুষ্টিয়ায় সারের ডিলার নিয়োগ, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ‘কটূক্তি’র অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। কুষ্টিয়া ৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদে কুষ্টিয়া শহরে ঝাড়ু মিছিল করেছে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে, প্রশাসনিক বৈঠকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এমপি আমির হামজা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া শহর মহিলা দলের সভানেত্রী শিল্পীর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি প্রতিনিধি দল কুষ্টিয়া শহরের পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ থেকে ঝাড়ু মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাঁচ রাস্তার মোড়ের শহীদ চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে মহিলা দলের নেত্রীরা বলেন, কুষ্টিয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা তাদের নেত্রী এবং মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ও অসৌজন্যমূলক কথাবার্তা বলেছেন। এর প্রতিবাদ জানাতেই তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। এ সময় মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এমপি আমির হামজা ও তার দল জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা নুরুজ্জামান অডিটোরিয়ামে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা।
অনুষ্ঠানে এমপি আমীর হামজা অভিযোগ করে বলেন, “আমি ১ লাখ ৮৩ হাজার ভোটে নির্বাচিত এমপি। অথচ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকাণ্ডে আমাদের মাইনাস করা হচ্ছে।” তিনি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বলেন, “ইউনিয়ন পর্যায়ে সারের ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং করেছে কুষ্টিয়া প্রশাসন। সেখানে নির্বাচিত এমপিকে বাদ দিয়ে কমিটি-বহির্ভূত ব্যক্তি ও সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি আরও দাবি করেন, সরকারি দলের বাইরে কাউকে সারের ডিলারশিপ দেওয়া যাবে না বলে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে এমপি হামজা আরও বলেন, “আপনারা কি ২৪ আগস্ট দেখতে চান? আপনাদের বর্তমান কর্মকাণ্ডে তেমনই আলামত মিলছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের সাধারণ জনগণ আপনাদের ছাড় দেবে না।”
আমির হামজার এই বক্তব্যের পর থেকেই কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য দল নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অধিকার ও দাবির বিষয়ে অবস্থান জোরালো করছে। অন্যদিকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলছেন, বিগত সময়ে তারা নানাভাবে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অধিকার কোনো অংশে কম নয়। পাল্টাপাল্টি এই অবস্থানে বর্তমানে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক ময়দানে চরম ক্ষোভ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









