সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নের গুরুকচি বাজারে যাত্রী সেবার উদ্দেশ্যে নির্মিত একমাত্র যাত্রী ছাউনিটি এখন স্থানীয় অবৈধ দখলদারদের কব্জায় চলে গেছে। জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত এই আধুনিক অবকাঠামোটি এখন সাধারণ মানুষের কোনো কাজেই আসছে না। উল্টো এটি অবরুদ্ধ ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ যাত্রীরা।
সরেজমিনে গুরুকচি বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জেলা পরিষদ এই আধুনিক যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করেছিল। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের নজরদারির কারণে ছাউনিটির সামনের জায়গা ও দুই পাশ ধীরে ধীরে বেদখল হয়ে গেছে। বর্তমানে ছাউনিটির মূল ফটক ও সম্মুখভাগ সম্পূর্ণ আড়াল করে গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক অস্থায়ী দোকানপাট।
ছাউনির ভেতর প্রবেশ করে দেখা যায় আরও ভয়াবহ চিত্র। সাধারণ যাত্রীদের বসার স্থানটি এখন ময়লা-আবর্জনা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অপ্রয়োজনীয় মালামাল রাখার স্তূপে পরিণত হয়েছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বাস, সিএনজি, লাইনে চালিত হিউম্যান হলার কিংবা লেগুনার জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ভেতরে বসার মতো কোনো পরিবেশ নেই। বাধ্য হয়ে রোদ-বৃষ্টির মধ্যেই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। এতে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারে আসা নিয়মিত সাধারণ যাত্রীদের সাথে কথা বললে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
গুরুকচি বাজারে সিএনজির জন্য অপেক্ষমাণ রহমান মিয়া নামে এক যাত্রী বলেন, ‘‘যাত্রী ছাউনি বানানো হয়েছে আমাদের বসার জন্য। কিন্তু এখন ছাউনির সামনে দোকান বসিয়ে এমনভাবে আটকে রাখা হয়েছে যে, দূর থেকে বোঝার উপায় নেই এখানে কোনো যাত্রী ছাউনি আছে। বৃষ্টি আসলে আমাদের নিরুপায় হয়ে খোলা আকাশের নিচে কিংবা বাজারের অন্য দোকানের চালার নিচে দাঁড়াতে হয়।’’
যাত্রী ছাউনি দখল করে দোকান স্থাপনের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অস্থায়ী দোকানদার জানান, বাজারে জায়গার অভাব থাকায় তারা সাময়িকভাবে এখানে দোকান বসিয়েছেন। প্রশাসন বা বাজার কমিটি বললে তারা জায়গা খালি করে দেবেন।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, সরকারি যেকোনো স্থাপনা অবৈধভাবে দখল করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। গুরুকচি বাজারের যাত্রী ছাউনিটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি এবং দ্রুত স্থানীয় ভূমি প্রশাসন ও বাজার কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় জনসাধারণ ও ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে গুরুকচি বাজারের যাত্রী ছাউনিটি অবমুক্ত করা হোক এবং এর সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হোক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









