এক সময়ের রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ও আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ-২ আসন-এ এখন ভিন্ন এক বাস্তবতা। যেখানে একসময় বিএনপির রাজনীতি করা ছিল জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার সামিল, সেখানেই তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতা ডাঃ কে এম বাবর আজ সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক। আগামীকাল তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা ও আলোড়ন।
শপথের প্রাক্কালে গোপালগঞ্জের ২৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারাও এক সুরে দাবি তুলেছেন—তাদের প্রিয় নেতা ডাঃ বাবরকে দেশের আগামী ‘স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী’ হিসেবে দেখতে চান তারা।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্য, গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রভাব ঐতিহাসিকভাবে গভীর। দীর্ঘদিন পর তারা এমন একজন সৎ, সাহসী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব পেয়েছেন, যিনি রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দল ও মানুষের পাশে ছিলেন।
তাদের মতে, ডাঃ বাবর কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি একজন দেশপ্রেমিক ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির চিকিৎসক। জেলার অবহেলিত স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে তাঁর মতো একজন পেশাদার ও সজ্জন ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভায়-বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।
নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরপরই তাঁর সক্রিয়তা এই প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করেছে। শপথ নেওয়ার আগেই তিনি ছুটে যান গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ। সেখানে নিজ হাতে রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। একজন চিকিৎসক হিসেবে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে তাঁর আন্তরিকতার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
এছাড়া নির্বাচনের সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে তিনি যান মতুয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র তীর্থস্থান ওড়াকান্দি-তে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার প্রতি সমান শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই নিজেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাধারণ মানুষ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, দেড় দশকের বেশি সময় প্রতিকূল পরিবেশে দলের পতাকা উঁচিয়ে রাখা এবং তৃণমূলকে সুসংগঠিত করার যে ভূমিকা ডাঃ বাবর রেখেছেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, একজন দক্ষ, সৎ ও জনবান্ধব চিকিৎসক হিসেবে তাঁকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলে তা কেবল গোপালগঞ্জের মানুষের প্রত্যাশা পূরণই করবে না, বরং দেশের স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা ঘটাবে।
কাওছার আল হাবীব/এদিন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









