মেঘনার ভাঙনে বারবার বিপর্যস্ত ভৈরব শহর ও আশপাশের জনপদ রক্ষায় বড় ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদীর ভাঙন ঠেকাতে ৩৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণ করা হবে।
ভৈরব ফেরিঘাট থেকে মেন্দিপুর পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে নদীভাঙন থেকে শহর ও জনবসতি সুরক্ষার ব্যবস্থা হবে, অন্যদিকে দীর্ঘ এই সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও নতুন সংযোগ তৈরি করবে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে ভৈরব শহরের কালিপুর এলাকায় মেঘনা নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেঘনা নদীর ভাঙনে ভৈরব শহরসহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে ফেরিঘাট থেকে মেন্দিপুর পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা। পর্যায়ক্রমে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
শুধু ভাঙন প্রতিরোধ নয়, প্রকল্পে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বেড়িবাঁধের ওপর নির্মিতব্য সড়কটি স্থানীয় মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
তবে বাঁধ নির্মাণ করতে গিয়ে যাতে মেঘনার সঙ্গে সংযুক্ত খাল-বিলের পানি চলাচল বন্ধ না হয়, সেই বিষয়েও পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় স্থানে সেতু নির্মাণ করা হবে। ফলে সড়ক ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি পানির স্বাভাবিক প্রবাহও বজায় রাখার ব্যবস্থা থাকবে।
এদিন ভৈরবে আরও কয়েকটি উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী।
সকালে ভৈরব উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় কমলপুর ডাকবাংলোয় ভৈরব ফুটবল একাডেমিকে ক্রীড়া ও প্রশিক্ষণ সামগ্রী দেওয়া হয়।
পরে ভৈরব বাজারের চান্দানী টিলার হরিজন পল্লীতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্যানিটেশন, সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন তিনি। স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এসব কাজ হচ্ছে।
বিকেলে উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা পরিষদ ও সংসদ সদস্যের তহবিলের অর্থায়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ সময় কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সি আমির ফয়সাল, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল হক এবং ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জাহিদুল হক জাবেদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









