ময়মনসিংহের ত্রিশাল-ফুলবাড়িয়া ভায়া ধুরধুরিয়া সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। এতে যানবাহন চলাচল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তেমনি প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী, চালক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজ এগোয়নি কাঙ্ক্ষিত গতিতে। তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও প্রায় এক কিলোমিটার কাজ শেষ করে বাকি অংশ ফেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সংস্কার কাজ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একটি বড় গর্তে মালবোঝাই একটি ট্রলি আটকে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে মাটি ও খোয়া। এসব গর্তের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় দুলতে থাকে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায়ই গর্তে পড়ে অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে ফুলবাড়িয়া উপজেলা পর্যন্ত ত্রিশাল-ধুরধুরিয়া সড়কটি কয়েক বছর ধরেই ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। সড়কটির তিন কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে মেসার্স সাইফুল ইসলামকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদার মে মাস পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ করে বাকি অংশ ফেলে রাখেন।
সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ছলিমপুর এলাকার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। শিক্ষকদের ভাষ্য, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী অটোরিকশা বা ভ্যানে না উঠে প্রায় দুই কিলোমিটার হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় আহমেদ বলেন, ‘‘সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রতিদিন টিউশনি করতে আসা-যাওয়ার সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। অটোরিকশা বা সিএনজিতে চলাচলের সময় কখন গাড়ি উল্টে যায়, সেই ভয় থাকে। অনেক সময় গর্তে পড়ে গাড়ি কাত হয়ে যায়।’’
প্রাণ ও আরএফএল কোম্পানির স্থানীয় মার্কেটিং কর্মকর্তা আল আলামীন বলেন, ‘‘মার্কেটিংয়ের কাজে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। আজও বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় সড়কের বড় গর্তে পড়ে কাদামাটিতে পড়ে যাই।’’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘‘আমাদের এমপি সাহেব সড়কটির কাজ উদ্বোধন করে গেছেন। অথচ এত দিনেও কাজ শেষ হয়নি। শুনেছি ঠিকাদার রাস্তার কাজ ফেলে চলে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে অটোরিকশা ও সিএনজি প্রায়ই গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।’’
এ বিষয়ে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমি এক কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ করে বিলের আবেদন করেছি। এখন পর্যন্ত আমাকে এক টাকাও বিল দেওয়া হয়নি। তাছাড়া বিটুমিন না পাওয়ায় কাজ করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি-বাদল শেষ হলে দ্রুতই কাজ শেষ করে ফেলব।’’
ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, ‘‘ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিটুমিনের কাজ করা কঠিন। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









