ভোরের নীরবতা ভেঙে ভেসে আসছিল নবজাতকের কান্না। রাস্তার পাশের জঙ্গলের ভেতর থেকে আসা সেই কান্নার শব্দই শেষ পর্যন্ত জানান দিল, সেখানে পড়ে আছে এক নবজাতক ছেলে শিশু। বগুড়ার ধুনট উপজেলার পূর্ব গুয়াডহরী গ্রামে এমন ঘটনায় এলাকায় কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব গুয়াডহরী গ্রামের মসজিদে যাতায়াতের রাস্তার পাশের জঙ্গল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান।
স্থানীয়রা জানান, ভোরে ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তি জঙ্গলের ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে শব্দের উৎসের দিকে এগিয়ে গিয়ে তিনি জঙ্গলের মধ্যে নবজাতক শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে পূর্ব গুয়াডহরী গ্রামের আব্দুল গণি সরকারের ছেলে মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
নবজাতক উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে মিজানুর রহমানের বাড়িতে আশপাশের লোকজন ভিড় করেন। হঠাৎ জঙ্গলের ভেতর পাওয়া এই শিশুকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় নানা প্রশ্ন। কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে রেখে গেছে, কী কারণে তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়া হয়েছে—এখনো তার কোনো উত্তর মেলেনি।
স্থানীয়দের ধারণা, রাতের কোনো একসময় শিশুটিকে জঙ্গলের পাশে রেখে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া শিশুটির পরিচয় এবং তার বাবা-মায়ের বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য জানা যায়নি।
ধুনট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল কাফি বলেন, উদ্ধার হওয়া নবজাতককে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুটির বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









