ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলেও নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর এলাকায় এখনো বিভিন্ন সড়ক, পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ঝুলে আছে নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। কোথাও সেগুলো ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে আছে, কোথাও আবার গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুলে থেকে নগর সৌন্দর্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও নির্বাচনী বিধিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে ভোটগ্রহণ সমাপ্তির ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় ব্যবহৃত নিজ নিজ প্রচারণা সামগ্রী প্রার্থী নিজ দ্বায়িত্বে অপসারণ করবেন। তবে এসব অপসারণে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের অংশগ্রহনকারী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
সদ্য দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) পরিবেশ সুরক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে নির্বাচনের আগে কাগজের পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ প্রার্থী প্রচারণায় ব্যবহার করেছেন পিভিসি, রেক্সিন, অপচনশীল কাপড় ও বিভিন্ন প্লাস্টিকজাত ব্যানার ও ফেস্টুন, যা পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী, রেক্সিন, পলিথিন ও প্লাস্টিকসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদানে তৈরি প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত গাছ, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটিতে কোনো ধরনের ব্যানার, পোস্টার কিংবা ফেস্টুন টাঙানোর ওপরও স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ছিল।
কিন্তু সরেজমিনে মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, সিনেমা রোড, জিআরপি চত্ত্বর, ক্যান্টনমেন্ট সড়কসহ বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও আবাসিক এলাকায় দেখা যায় এখনো অসংখ্য কাপড় ও প্লস্টিকের ব্যানার ঝুলে আছে। অনেক জায়গায় খোলা ব্যানার ও ফেস্টুন সড়ক ও ফুটপাতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা বৃষ্টি হলে ড্রেন ও নালায় গিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নীলফামারী-৪ আসনের নির্বাচনে দাড়িপাল্লা প্রতীকে জয়লাভ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল গফুর সরকার এবং লাঙ্গল প্রতীকের জাতীয় পার্টির আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। এ ছাড়া আরও কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় সব প্রার্থীর ব্যানার-ফেস্টুন এখনো ঝুলে রয়েছে।
শহরের হাওয়ালদারপাড়ার বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, অনেক জায়গায় ব্যানার খুলে রাস্তায় পড়ে আছে। এগুলো ড্রেনে গেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। দ্রুত অপসারণ না করলে সমস্যা আরও বাড়বে। হাতিখানার বাসিন্দা শামসুদ্দিন বলেন, নির্বাচন শেষ হয়েছে কয়েক দিন আগে। কিন্তু প্রার্থী কিংবা তাদের কোন কর্মী কাউকেই এখনো ব্যানার অপসারণ করতে দেখা যায়নি।
পাখি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সৈয়দপুরের সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, কাগজের পোস্টার নিষিদ্ধ করা হলেও বাস্তবে আরও বেশি প্লাস্টিক ও অপচনশীল ব্যানার ব্যবহার হয়েছে। এখনো সেগুলো ঝুলে থাকায় পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত এসব অপসারণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে ফোনে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর কাছে জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর পৌরসভার কর্মকর্তা নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন শেষে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঝুলে থাকা ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণে প্রার্থীদের প্রতি নির্দেশনা রয়েছে। পৌরসভার জন্য এসব অপসারণে কোন নির্দেশান দেওয়া হয়নি। যদি ভবিষ্যতে নির্দেশনা আসে তাহলে পৌরসভার পক্ষ থেকে তা অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাওছার আল হাবীব/এদিন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









