রাঙামাটির প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল ১০০ শয্যাবিশিষ্ট রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিদিন জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এই হাসপাতালে। অথচ যে পথ দিয়ে এসব অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছাতে হয়, সেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিই দীর্ঘদিন ধরে বেহাল।
হাসপাতাল সুস্থ করার জায়গা, অথচ হাসপাতালে ঢোকার রাস্তাই যেন অসুস্থ।সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। কোথাও কোথাও উঠে এসেছে সড়কের নিচের স্তরও। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে জমছে পানি ও কাদা। ফলে রোগী বহনকারী যানবাহনসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ভোগ।
হাসপাতালের প্রবেশপথের এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। একই সড়ক ব্যবহার করতে হয় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট, ইন্টার্ন ডরমেটরি ও ছাত্রী হোস্টেলে যাতায়াতকারী মানুষদের।
সড়কের গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশের কারণে রোগীবাহী যানবাহনে তৈরি হয় প্রচণ্ড ঝাঁকুনি। এতে গুরুতর অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। জরুরি রোগী নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতেও বাধাগ্রস্ত হতে হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই চিত্র। বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামত করা হলেও কিছুদিন পর আবারও গর্ত ও ভাঙন দেখা দেয়। ফলে স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে বারবার ফিরে আসছে একই দুর্ভোগ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে, এমনকি ভালো রাস্তার ওপরও নতুন করে পিচ ঢালাই করা হচ্ছে। তাহলে রোগী ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হাসপাতালের প্রবেশপথটি কেন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত? পৌরসভা, এলজিইডি বা সড়ক বিভাগ কি দায়িত্ব নিতে পারে না?
সিএনজি চালক মো. রফিক বলেন, হাসপাতালের সামনের এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ। প্রতিদিন অসুস্থ রোগী ও স্বজনদের নিয়ে এখানে আসতে হয়। গর্ত ও খানাখন্দের কারণে রোগীদের আরও কষ্ট হয়। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভালো রাস্তার ওপরও নতুন করে পিচ দেওয়া হচ্ছে, অথচ হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গার রাস্তাটি সংস্কার হচ্ছে না এটা আমাদেরও প্রশ্ন।
মানিকছড়ি থেকে আসা এক রোগীর স্বজন বলেন, অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু হাসপাতালে ঢোকার পথই যদি এমন থাকে, তাহলে রোগীর ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। গুরুতর অসুস্থ রোগী নিয়ে আসার সময় রাস্তার কারণে অনেক সমস্যা হয়। আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিক।
রোগী মো. কামাল হোসেন বলেন, হাসপাতালের রাস্তার এই দুরবস্থা নতুন নয়। বারবার মেরামত করা হলেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। শহরের অন্য অনেক রাস্তার সংস্কার হচ্ছে, কিন্তু হাসপাতালের প্রবেশপথের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা দরকার।
সড়কটির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ নূয়েন খীসা। তিনি জানান, সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় সদর হাসপাতালের সড়কের দুরবস্থার বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানানো হলে তারা সড়কটি দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে রাঙামাটি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) প্রবীর দাশ বলেন, আইনশৃঙ্খলা সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাসপাতাল রোড সংস্কারের জন্য নির্দেশনা পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী শুধু হাসপাতাল সড়ক নয়, আরও দুটি সড়কসহ মোট তিনটি সড়ককে একটি প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি টিম পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো কারণে ওই প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ না হলেও পৌর প্রশাসকের নির্দেশনা রয়েছে পৌরসভার নিজস্ব তহবিল অথবা এডিপির ফান্ড থেকে হলেও আপাতত সড়কটি মেরামত করা হবে। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই সড়কটির সংস্কারকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, হাসপাতালের রাস্তাটিকে শুধু জোড়াতালি দিয়ে মেরামত নয়, টেকসই ও স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হবে। কারণ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা একজন রোগীর ভোগান্তি শুরু হওয়া উচিত নয় হাসপাতালের দরজায় পৌঁছানোর আগেই। হাসপাতালের সেবা পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি দ্রুত চলাচল উপযোগী করার দাবি এখন রোগী, স্বজন ও স্থানীয়দের।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









