নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে আসার পথে ১৩ যাত্রী নিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন (৫৫)। এর আগে দুর্ঘটনার পরপরই রায়েশা বেগম (৫৫) নামে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব (২২) ও সামিন (৫) এবং মেয়ে সামিয়া (১৭)। গতকাল রাতে ও আজ সকালে মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ট্রলারে থাকা দুটি গরু ও একটি ছাগলও মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানাসংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার পর স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দলও উদ্ধার অভিযান চালায়।
নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী শিরিন বেগম (৪৫) ও তার আরেক মেয়ে লামিয়া আক্তারকে ট্রলার ডুবিব সাথে সাথে জীবিত উদ্ধার করে স্থানীয়রা। তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া এলাকার সাজিয়া আক্তার ও শিশিরের বিয়েতে অংশ নিতে কুমিল্লার হোমনা থেকে স্বজনেরা একটি ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া এলাকায় আসছিলেন। মেঘনা নদী পার হওয়ার সময় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ট্রলারটি ডুবে গেলে যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা অন্য একটি ট্রলার নিয়ে কয়েকজনকে উদ্ধার করেন।
সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত রায়েশা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরী বলেন, ‘আনুমানিক দেড়টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে আমরা খবর পাই বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীতে উদ্ধার অভিযান চলছে।’
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে মেঘনা নদীতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









