গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর শহরে ছাত্রশিবিরের বড়লেখা উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছিল। কিন্তু জুলাইয়ের সেই স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও কাঠামোগত কোনো সংস্কার আমরা দেখতে পাচ্ছি না। তারা চায় না তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্গঠিত হোক। নিজেদের মতো করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে নতুন নাটক সাজিয়ে দ্বিতীয় নির্বাচন করে চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার বন্দোবস্ত করতে তারা জুলাই সনদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।’
জাতীয় অধ্যাপক নিয়োগসংক্রান্ত কমিটিতে একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তিকে সদস্য করার সমালোচনা করে সাদ্দাম বলেন, ‘একটি দেশের জাতীয় অধ্যাপক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা জাতির জন্য তামাশায় পরিণত হয়। যোগ্যতার কোনো বালাই নেই।’
অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েমও সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার গণভোটের জনরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘নির্বাচনের পর আমাদের নেতা ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে নির্বাচন মেনে নিয়েছিলেন। আমরা আশা করেছিলাম, বিএনপি সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেবে, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে এবং সারাদেশে চাঁদাবাজি, রাহাজানি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ করবে। কিন্তু গত সাত মাসে আমরা দেখেছি, বিএনপি সরকার এই জাতির সঙ্গে এবং জুলাই শহীদদের রক্তের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন বিএনপি সরকার থেকে মুক্তি চায়।’
সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে বলেও অভিযোগ করেন ডাকসু ভিপি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অযোগ্য ব্যক্তিদের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ডাকসুর কার্যক্রম প্রসঙ্গে আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা সফলভাবে এক বছর ডাকসুর দায়িত্ব পালন করেছি। ক্ষমতার চেয়ারে বসে থাকতে চাই না। বাংলাদেশে একটি নজির স্থাপন করেছি।’ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বড়লেখা উপজেলা শাখার সভাপতি নোমান আহমদের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা উত্তর শাখার সভাপতি হানজালা আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও ডাকসু সদস্য শাহিনুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন, জামায়াতে ইসলামীর জেলা মজলিসে শুরা ও কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মজলিসে শুরা সদস্য এমাদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ফয়সল আহমদ ও আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ সুমনসহ স্থানীয় নেতারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









