ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাত বছরের শিশু মাহিদা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলামের (১৭) পক্ষে কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীরা কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন সমিতির নেতারা।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাবুল এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াবেন না। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে আইনজীবীরা সহযোগিতা করবেন।
নিহত মাহিদার মা মনিরা আক্তারসহ স্বজন ও স্থানীয়রা জেলা আইনজীবী সমিতিতে গিয়ে জাহিদুলের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার জন্য লিখিত অনুরোধ জানান। পরে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করে জাহিদুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মাহিদা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পঞ্চম আদালতে সে জবানবন্দি দেয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে জাহিদুল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মো. হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষে জাহিদুল ইসলামকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে পানি খাওয়ানোর কথা বলে মাহিদাকে একটি বসতঘরে ডেকে নেওয়া হয়। পরে সেখানে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে মাহিদার মা তাকে ওই ঘরে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা জাহিদুলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









