কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) যৌন নিপীড়ন ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন শিক্ষক আলী রেজওয়ান তালুকদার, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং কাজী এম আনিছুল ইসলামকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের শাস্তি পুনর্বহালের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাহিম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে নিজেদের দল ভারী করার উদ্দেশ্যে যৌন নির্যাতনে অভিযুক্ত তিন নিপীড়ককে স্বপদে বহাল করেছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের ইজ্জতের দায়ভার কি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে? বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে। কিন্তু কাজী আনিছের মতো কিছু লম্পটরা গভীর রাতে কল দিয়ে তার প্রিয় ছাত্রীকে প্রশ্ন দেওয়ার মাধ্যমে বাকিদের সঙ্গে বৈষম্যের নজির স্থাপন করেছে। প্রমাণিত হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটি ছাড়া আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখিনি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘যতটুকু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবার তাকে ক্ষমা করে দিয়েছে, যাতে পুনরায় সে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্য করতে পারে এবং নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্থা করতে পারে। প্রশাসনের প্রতি বিনীত আহ্বান থাকবে, অচিরেই আপনাদের ঘৃণ্য সিদ্ধান্ত থেকে আপনারা সরে আসুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা আপনারা দিন।’’
মানববন্ধন শেষে শিক্ষর্থীরা উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি উপস্থাপন করেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ইংরেজি বিভাগের তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদর আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে সান্ধ্যকালীন কোর্সের এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন এবং বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন এবং তিন শিক্ষার্থীকে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে নম্বর দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তদন্তের স্বার্থে ১ অক্টোবর তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১০৪তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের পদাবনতি দেওয়া হয়। পরে ২০২৬ সালের ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের অভিযোগ পুনর্বিবেচনার জন্য একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির বিষয়টি বিবেচনা করে এবার তাদের আগের পদে বহাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ২০২৫ সালের মার্চে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম আনিছুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিভাগের একটি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত চলাকালে কাজী এম আনিছুল ইসলামকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রেখে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
সর্বশেষ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদার এবং মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে পূর্বে দেওয়া পদাবনতি বাতিল করে তাদেরকে পূনরায় স্বপদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আলী রেজওয়ান তালুকদারকে সতর্ক করা হয়েছে এবং জসিম উদ্দিনকে আগামী দুই বছর কোনো পদোন্নতি দেওয়া হবে না এই সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে কাজী এম আনিছুল ইসলামকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তাকে ক্লাসে ফেরার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান উপাচার্য।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









