সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেনি।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার পর তারা শাহবাগে আন্দোলনস্থলে ফিরে আসে।
এর আগে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন নিয়োগপত্রবঞ্চিত প্রার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেন তারা। সেখান থেকে পাঁচ সদস্যের একটি দল সচিবালয়ে গেলেও কারও সাক্ষাৎ না পেয়ে বিকেলে আন্দোলনস্থলে ফিরে আসে। প্রতিনিধিদলের সদস্য তানভীর রহমান বাপ্পা এ তথ্য জানান।
আন্দোলনকারীদের দাবি, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও যারা নিয়োগপত্র পাননি, তাদের দ্রুত নিয়োগপত্র দিতে হবে। ‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫’ প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, প্রায় দেড় হাজার প্রার্থীর নিয়োগপত্র এখনো ইস্যু হয়নি। বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেখানে নিয়োগপত্র নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, ১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তীর্ণ কোনো প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেলে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পরবর্তী সময়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়।
শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টেও একই কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত কেউ নিয়োগপত্র না পেলে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। ভেরিফিকেশন বা ভেটিং সরকারি নিয়োগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলেও জানান তিনি।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয়। পার্বত্য তিন জেলা বাদে অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। জেলা অনুযায়ী উত্তীর্ণদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর। তবে বিভিন্ন জেলায় অনেক প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়ায় দ্রুত তা দেওয়ার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









