নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির চার দিন পর নিখোঁজ হেলালউদ্দিনের (৫৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেঘনার শাখা নদী মারিখালীর রতনপুর ব্রিজ এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও বৈদ্যেরবাজার নৌ-ফাঁড়ি পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে লাশটি ভেসে ওঠে।
নিহতের বোনজামাই মোক্তার হোসেন লাশ শনাক্ত করেন। পরে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। দাফনের জন্য লাশ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।
বৈদ্যেরবাজার নৌ-ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, হেলালউদ্দিনের লাশ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে।
উল্লেখ, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানার সামনে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে একই পরিবারের রায়েশা বেগম, হেলালউদ্দিন, সজীব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেন নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই রায়েশা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। শনিবার সকালে বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে নদীতে ভাসমান অবস্থায় সজীব, সামিয়া ও সামিনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৩ জন আত্মীয়স্বজন বিয়ের বাজার, দুটি গরু ও একটি খাসি নিয়ে ট্রলারে করে আসছিলেন। সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার আটজনকে উদ্ধার করে।
শুক্রবার ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে দুটি গরু ও একটি খাসির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার দিনভর উদ্ধার অভিযান চালিয়েও নিখোঁজদের সন্ধান পায়নি। পরে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে অভিযান স্থগিত করা হয়।
ট্রলারডুবিতে নিহত রায়েশা বেগমের (৫৫) লাশও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী।
হেলালউদ্দিনের লাশ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় নিখোঁজ পাঁচজনেরই মরদেহ উদ্ধার করা হলো।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









