নাটোরের গুরুদাসপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলনের (৫৬) বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
এরআগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই নারী (৩৭) বাদী হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেন। ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়ি খুবজীপুর ইউনিয়নে। তিনি দুই সন্তানের জননী।
হাসপাতালের চিকিৎসক সাদিয়া বিনতে মাহমুদ মৃদুলা জানান, মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ধর্ষণের বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হবে।
চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলনের বিরুদ্ধে ২২ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা হয়। মামলার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম দোলন তিন মেয়াদে খুবজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদেও রয়েছেন। তার বাবা আব্দুল গফুর সরদার দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান ছিলেন।
ভুক্তভোগী নারীর বরাত দিয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, ওই নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করেন মনিরুল ইসলাম দোলন।
সবশেষ গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খুবজীপুর ইউনিয়নের বিলশা গ্রামে চেয়ারম্যানের বাসভবন সংলগ্ন সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চেয়ারম্যানের চাচাতো বোন কোহেলি কুদ্দুস মুক্তির বাস ভবনে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
চেয়ারম্যানের স্ত্রী জানান, তার স্বামীর বিরুদ্ধে করা মামলাটি সত্য নয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হয়রানির শিকার তিনি। আসছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষরা ভোটের মাঠের বাইরে রাখতেই এধরনের মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘‘ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ দাখিলের পর প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সোমবার রাতেই তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









