বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ফি দেওয়ার মতো ন্যূনতম সামর্থ্যও ছিল না যার, আজ তিনি বিচার বিভাগের সহকারী জজ। বলছি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মাধাই গ্রামের তুরি জনগোষ্ঠীর সন্তান কাজল পাঁড়ের কথা। দীর্ঘ প্রতিকূলতা ও চরম দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ (সহকারী জজ) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। এ পরীক্ষায় ২০০ জন প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও কাজলের মেধাতালিকার অবস্থান ১৪০তম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেলেও সামনে আসে কঠিন বাস্তবতা। ভর্তি ফি জোগাড় করার মতো টাকা ছিল না তাঁর হাতে। পরবর্তীতে বাবা-মা, মামা, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সহযোগিতায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরও কাটেনি অর্থের সংকট। নিজের পড়াশোনা ও জীবনযাপনের খরচ চালাতে এবং পরিবারকে সহায়তা করতে নিয়মিত টিউশনি করেছেন তিনি। ক্লাসের ফাঁدي কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায় চালিয়ে গেছেন বিচারক হওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই।
গত বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নিজের সাফল্যের খবর জানতে পারেন কাজল। তাঁর এই সাফল্যের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মাধাই গ্রামে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার রাজশাহী থেকে বাড়ি ফেরার সময় গ্রামের শিক্ষার্থীরা তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মা পঞ্চমী জেড়ি ও বড় বোন কল্পনা পাঁড়ে।
কাজল পাঁড়ের এই অভাবনীয় সাফল্যে আনন্দিত এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাজহারুল ইসলাম তরু এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. মুশা কাজলের এই অর্জনকে অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেছেন। তাঁরা মনে করেন, কাজলের এই সংগ্রামের গল্প দেশের অনগ্রসর ও সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









