রাত তখন প্রায় ১১টা। একটি প্রাইভেটকার ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক যশোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙা গ্রামে প্রবেশ করে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা ও তল্লাশি শুরু করেন। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ‘ডাকাত আতঙ্ক’ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্থানীয়দের উদ্যোগে মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে প্রচার করা হলে দুই গ্রামের শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে সন্দেহভাজন ওই যুবকরা বালিয়াডাঙা বিসিক এলাকা থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে মান্দারতলায় একটি প্রাইভেটকার ফেলে তারা বিভিন্ন দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা চালান। পরে মালোপাড়া এলাকা থেকে ধাওয়া করে তাদের মধ্য থেকে পাঁচজনকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। এ সময় তাদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।
আটক পাঁচজন হলেন—ঝিকরগাছা উপজেলার বাইশা চাঁদপুর গ্রামের রাসেল, নাহিদ, নিরব, সুজন ও তানজিম। পরে পুলিশ তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এদিকে স্থানীয়দের কয়েকজন দাবি করেছেন, ওই দলে একজন নারীও ছিলেন, তবে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক ব্যক্তিরা সেখানে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে একেকজন একেক রকম তথ্য দেন। কেউ দাবি করেন এক আদম ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা আনতে গিয়েছিলেন, আবার কেউ বলেন স্ত্রীকে নিতে এসেছিলেন; অন্য একজন কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। তাদের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে জনমনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আটক ব্যক্তিরা কোনো ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য হতে পারেন। তবে ঘটনাস্থলে ডাকাতির সুনির্দিষ্ট কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন এবং আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









