সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

ঘরে ঘরে জ্বর–সর্দি, অসুস্থতার নীরব ছায়া

প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

ঘরে ঘরে জ্বর–সর্দি, অসুস্থতার নীরব ছায়া

খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

আবহাওয়ার বেখেয়ালি আচরণ যেন দিনাজপুরের খানসামায় নিত্যদিনের সঙ্গী। দিনের বেলা ভ্যাপসা গরম, আবার রাত নামলেই হঠাৎ ঠান্ডা—এই বৈপরীত্যের মাঝেই নাক দিয়ে পানি পড়া, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, জ্বর আর কাশিতে কাবু হয়ে পড়ছেন উপজেলার মানুষজন। এমন অবস্থা যে, কমবেশি প্রতিটি ঘরেই এখন সর্দি–জ্বরের গল্প।

এই পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশু ও বয়স্কদের ওপর। এক থেকে শুরু করে ১০–১২ বছর বয়সী শিশুরা যেমন ভুগছে, তেমনি কষ্ট পাচ্ছেন প্রবীণরাও। ফলে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স—সবখানেই বাড়ছে রোগীর ভিড়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হয়ে এলাকার ফার্মেসিতে উপসর্গের কথা বলে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, আবার অনেকেই সুস্থ হচ্ছেন না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, সরেজমিনে দেখা গেছে—ডাক্তারের ব্যক্তিগত চেম্বারগুলোতেও লেগে আছে রোগীর উপচে পড়া ভিড়।

গৃহবধূ রহিমা খাতুনের কণ্ঠে উদ্বেগ,“আমার মেয়ে কয়েক দিন ধরে জ্বর–সর্দি আর কাশিতে ভুগছে। ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ালেও জ্বর কমেনি। তাই আজ ডাক্তারের কাছে নিয়ে এলাম।”

একই সুর শোনা যায় আরও অনেক ভুক্তভোগীর কণ্ঠে। তারা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সকালে প্রচণ্ড রোদ, আবার রাতে ঠান্ডার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। কখনো ভ্যাপসা গরম, কখনো হালকা ঠান্ডা—এই আবহাওয়ার ধাক্কায় শরীর যেন মানিয়ে নিতে পারছে না। কেউ কেউ ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খেলেও কাঙ্ক্ষিত উপকার পাচ্ছেন না।

মানিক নামে এক ব্যক্তি বলেন, “তিন দিন ধরে জ্বর, সর্দি, মাথাব্যথা আর শরীর ব্যথায় ভুগেছি। এখন কিছুটা ভালো, কিন্তু আমার ছোট্ট বাবুটাই এখন জ্বর–সর্দিতে আক্রান্ত।”

খানসামা বাজারের এক ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী পারভেজ জানান, “গত দুই–তিন সপ্তাহ ধরে সর্দি, কাশি আর জ্বরের ওষুধ বিক্রি অনেক বেড়ে গেছে। অবস্থা দেখে মনে হয়, এখন সত্যিই ঘরে ঘরে জ্বর। বেশিরভাগ মানুষ ডাক্তারের কাছে না গিয়ে সরাসরি আমাদের কাছেই আসছেন।”

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, “আবহাওয়াজনিত কারণে হঠাৎ সর্দি–জ্বরের প্রকোপ একটু বেড়েছে। এতে আতঙ্কের কিছু নেই। সাধারণত প্যারাসিটামলই যথেষ্ট। অযথা দোকান থেকে এন্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না। জ্বর হলে বেশি করে তরল খাবার খেতে হবে, বিশ্রামে থাকতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।”

আবহাওয়ার এই অস্থির সময়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলাই হতে পারে সুস্থ থাকার সবচেয়ে নিরাপদ পথ—এ কথাই যেন খানসামার প্রতিটি ঘরে ঘরে নতুন করে উচ্চারিত হচ্ছে।


কাওছার আল হাবীব/এদিন

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.