শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে তিন আইনজীবীকে মারধর ও একটি চেম্বার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির একটি পক্ষের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আদালত চত্বর ও আইনজীবী সমিতির পাশের একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার আইনজীবীরা হলেন সানোয়ার মল্লিক, শাহীন খান ও তানিয়া সুলতানা। তারা আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলা ও আইনজীবীদের রক্তাক্ত অবস্থার কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিওতে আদালত চত্বরে এক আইনজীবীকে মারধর এবং অপর দুই আইনজীবীর চেম্বারে হামলার দৃশ্য দেখা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবীর কর্মসূচির প্রতিবাদে বুধবার বেলা ১১টার দিকে আদালত চত্বরে মিছিল করেন সদর উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমর্থক। মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ ওরফে টিপু মাদবর।
অভিযোগ রয়েছে, মিছিল চলাকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিঁড়িতে আইনজীবী সানোয়ার মল্লিককে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে সিঁড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে আদালত ভবনের সামনে এনে মারধর করা হয়।
আইনজীবী সানোয়ার মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, ‘‘শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে দুই দিন আগে কয়েকজন আইনজীবী মিলে কেক কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আজ আদালত চত্বরে মিছিল করেন। ওই মিছিল থেকে বিএনপি নেতা মাহবুব মোর্শেদ ও তার ছেলে মিহির আমাকে মারধর করেন। রড দিয়ে আঘাত করায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। হামলাকারীদের ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারিনি। স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে আত্মগোপনে আছি।’’
মিছিল শেষে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আইনজীবী সমিতির পাশের একটি ভবনে গিয়ে আইনজীবী শাহীন খান ও তানিয়া সুলতানার চেম্বারে প্রবেশ করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেখানে দুই আইনজীবীকে মারধর এবং চেম্বার ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে।
আইনজীবী তানিয়া সুলতানা বলেন, ‘‘৩০ থেকে ৩৫ জন লোক শাহীন খান ও আমার চেম্বারে প্রবেশ করেন। ভয়ে শাহীন খান টয়লেটে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা টয়লেটের দরজা ভেঙে তাকে মারধর করেন। পরে আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। আমরা আতঙ্কিত হয়ে বিষয়টি সিনিয়র আইনজীবী ও আইনজীবী সমিতিকে জানিয়েছি। এ ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্যও হামলাকারীরা হুমকি দিয়েছেন।’’
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ। তিনি বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি সংগঠন। ওই সংগঠনের নামে কিছু লোক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি করে থাকেন। এর প্রতিবাদে বিএনপি আজ আদালত চত্বরে মিছিল করেছে। মিছিল থেকে সংক্ষুব্ধ হয়ে কেউ কিছু করে থাকতে পারেন। কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তা আমি বলতে পারব না।’’
শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আদালত চত্বরে আইনজীবীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য পেয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছি। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকেও ঘটনা জেনেছি। আইনজীবী সমিতি বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’’
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘‘আদালত চত্বরে আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনা শুনে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









