যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, যুবসমাজকে ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায় সরকার।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোলা শিল্পকলা একাডেমিতে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড আয়োজিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্প’-এর অষ্টম ব্যাচ এবং ‘এআই প্রশিক্ষণ প্রকল্প’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের যৌথ উদ্বোধনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, ‘‘প্রশিক্ষণ শুধু আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাস্তবে প্রশিক্ষণার্থীদের কাজে লাগছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণরা যেন নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৮৩টি ট্রেডের কোনগুলো বর্তমান সময়ে যুবকদের জন্য কার্যকর এবং কীভাবে সেগুলোকে আরও প্রয়োজনমুখী করা যায়, তা নিয়েও কাজ চলছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন তরুণ ঘরে বসে আয় করতে পারবেন। এতে বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।’’
তরুণদের মাদক ও ডিভাইস আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান আমিনুল হক।
তিনি বলেন, ‘‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তৈরির পাশাপাশি একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম এবং দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেশের রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দীর্ঘদিনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে দেশকে উত্তরণের চেষ্টা করছে।’’ গণতান্ত্রিক চর্চা ও মানুষের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের বিষয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘‘ঢাকা, বরিশাল ও ভোলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সহজ করতে এ সেতুর কোনো বিকল্প নেই।’’ ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সেতুটির কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।
অনুষ্ঠানে ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. শেখ মো. জোনায়েদ হোসেন, ভোলা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর এবং ভোলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওসার (পিপিএম)।
এ সময় ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষণার্থীসহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









