একসময় যমুনার ভাঙনে সর্বস্বান্ত হওয়া চরের মানুষের কাছে বালুচর ছিল এক অভিশাপ। কিন্তু সেই তপ্ত বালুচরেই এখন রূপালি ফুলের হাসিতে স্বপ্ন বুনছেন বগুড়ার সারিয়াকান্দির কৃষকরা। ভেষজ গুণসম্পন্ন অর্থকরী ফসল কালোজিরা চাষে এবার উপজেলায় অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। কৃষি অফিসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আবাদ হয়েছে এই 'কালো হীরা' খ্যাত ফসলের।
উপজেলা কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি মৌসুমে সারিয়াকান্দিতে কালোজিরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০ হেক্টর। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হেক্টরে। গত বছরের ১০ হেক্টরের অর্জনকে ছাড়িয়ে এবার চরের বিস্তীর্ণ জনপদে কালোজিরার সাদা ফুলের সমারোহ।
উপজেলার চালুয়াবাড়ি, কাজলা, হাটশেরপুর ও সদর ইউনিয়নের চর বাটিয়া এলাকা ঘুরে দেখা যায় মাঠের পর মাঠ কেবল কালোজিরা। যমুনার বুক চিরে জেগে ওঠা পলি মাটিতে এই চাষ যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, কালোজিরা চাষে অন্যান্য ফসলের তুলনায় সেচ ও সারের প্রয়োজন হয় নামমাত্র। রোগবালাইয়ের প্রকোপ কম থাকায় ফলন নষ্ট হওয়ার ভয় নেই এবং বাজারে ওষুধি গুণসম্পন্ন কালোজিরার চাহিদা তুঙ্গে, ফলে চড়া দাম পাওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে।
চর বাটিয়া এলাকার কৃষক আবু সাঈদ জানান, আগে আমরা শুধু মরিচ বা ভুট্টা করতাম। কিন্তু এখন দেখছি কালোজিরায় অল্প পুঁজিতে লাভ বেশি। গতবার যারা অল্প করেছিল, তাদের লাভ দেখে এবার আমরা সবাই ঝুঁকেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন তিনি।
সারিয়াকান্দি কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, চরের বালু মিশ্রিত পলি মাটি কালোজিরা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও সঠিক সময়ে বীজ বপনের পরামর্শ দেওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ সম্ভব হয়েছে।
কাওছার আল হাবীব/এদিন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









