মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে অবস্থিত নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জিতে পানজুমের ১০ হাজারের অধিক পানগাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ৫০ লক্ষ টাকার পানগাছ কেটে ফেলার ঘটনাটি জানাজানি হয়। এরআগে, বুধবার দিবাগত রাতে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা লিকিন খংপ্ডা, পাইলা পতাম, নাসরিন পতাম, জনি পতাম, নিস্তার পাটুয়াট, শিউলি আজিম, টিউনি আজিম, ডিমান পতাম এবং মাসার তংপের—এই ১০টি পরিবারের জুম থেকে পানগাছগুলো কেটে ফেলা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত জুমের মালিক নাসরিন পতাম বলেন, ‘‘কে বা কারা এই কাজ করেছে জানি না। তবে, যে বা যারা এই কাজ করেছে তারা নিশ্চিত জানে, খাসিয়াদের শেষ করার সহজ কৌশল হলো পান গাছ কেটে ফেলা। খাসিয়ারা সারাদিন জুমে কাজ করে জেনেই রাতের আধারে জুমের গাছগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে।’’
নার্সারি পুঞ্জির মান্রী (প্রধান) জনি পতাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমরা নিরীহ মানুষ। পান চাষ করেই সংসার চালাই। একটি গাছ ৪ বছর যত্ন করার পর পান পাওয়া যায়। অথচ দায়ের এক কোপে ৪ বছরের পরিশ্রম ও খরচ সব শেষ হয়ে যায়। পুঞ্জির দশটি পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ নিমিষে ধ্বংস হয়ে গেল। আমরা খুব ভয়ে আছি, পানগাছই আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস। ইতোমধ্যে প্রশাসন থেকে সরেজমিন তদন্ত করতে লোক এসেছে আমরা সঠিক তদন্ত করে দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছি।
কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, ‘‘আমাদের হয়রানির শেষ নেই। কে দেবে আমাদের জীবিকার নিরাপত্তা, উত্তর আমার জানা নেই। কেন খাসিয়া পুঞ্জির আদিবাসদের জীবিকা বারবার হামলার শিকার হবে, দুষ্কৃতিকারীদের বিচার হবে কি না সন্দেহ।’’
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









