রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে শহীদ হালিম লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৬ কৃতি শিক্ষার্থীর মাঝে সনদ, পুরস্কার ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে এককালীন আর্থিক অনুদান।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) শহীদ হালিম লিয়াকত স্মৃতি সংসদ, বাঘাইছড়ির উদ্যোগে আয়োজিত ‘শহীদ হালিম লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬’-এর পুরস্কার ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব সামগ্রী ও অনুদান তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শহীদ হালিম লিয়াকত স্মৃতি সংসদ, বাঘাইছড়ির সমন্বয়ক মো. আব্দুল জলিলের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য বিল্টু চাকমা। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাচালং সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. কামাল হোসেন মীর।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শহীদ হালিম লিয়াকত স্মৃতি সংসদের উপদেষ্টা সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল বারী।
এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের সদস্য, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, বাঘাইছড়ির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৫০ জন শিক্ষার্থী শহীদ হালিম লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৬৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়। তাদের মধ্যে ৮ জন ট্যালেন্টপুল, ২৮ জন এ গ্রেড এবং ৩০ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে।
অনুষ্ঠানে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৮ শিক্ষার্থীর হাতে এককালীন আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি এ গ্রেড ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাঝে সনদ, ক্রেস্ট ও বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশে এ ধরনের বৃত্তি কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু ভালো ফলাফল নয়, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা নিয়ে বেড়ে উঠতেও শিক্ষার্থীদের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জীবনে উৎসাহ ও স্বীকৃতি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। একটি বৃত্তি হয়তো আর্থিক সহায়তার দিক থেকে সীমিত, কিন্তু শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের পথে এটি আত্মবিশ্বাস ও প্রেরণা জোগাতে পারে। এই অর্জনকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিল্টু চাকমা বলেন, মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই শহীদ হালিম লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের শিক্ষাজীবনে সহযোগিতা করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ, পুরস্কার ও শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









