দুই হাত নেই, তবুও দমে যাননি। ভিক্ষাবৃত্তির পথ মাড়াননি একটুও। ২০১০ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই হাত হারানোর পর অভাব ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে আজ হরেক মালের ব্যবসা করে সংসারের হাল ধরেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের তেলকুপি গ্রামের অদম্য যুবক আয়াতুল্লাহ।
জানা গেছে, ২০১০ সালে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই হাত হারাতে হয় তাঁকে। সুস্থ হতে সময় লাগে প্রায় এক বছর। চিকিৎসার পেছনে সব পুঁজি শেষ হয়ে পরিবারটি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়ে। বাবা-মা, স্ত্রী, ছেলে ও ভাইসহ ৬ জনের বিশাল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় জীবনের এই চরম সংকটেও হার মানেননি তিনি। বেঁচে থাকার তাগিদে বেছে নেন সততার পথ।
শুরুর দিকে গলায় ডালি ঝুলিয়ে কাঁধে করে গ্রামে গ্রামে ও বিভিন্ন হাট-বাজারে হরেক রকমের প্রসাধন ও খুচরা পণ্য বিক্রি করতেন তিনি। সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁকে একটি ভ্যান ও কিছু পণ্য সহায়তা দেওয়া হয়। সেই থেকে ছোট্ট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ওই ভ্যানে করেই বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে পণ্য বিক্রি করে আসছেন তিনি। প্রতিদিন ভ্যানে করে প্রায় এক হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করলে তার লাভ হয় ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। এই সামান্য আয়েই চলে তাঁর ৬ সদস্যের সংসার।
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রতিবেশীরা জানান, বেনজির, সারওয়ার জাহান ও কাশেদসহ স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর এই সংগ্রাম দেখছেন। তাঁর এই অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সততার প্রশংসাও করেন তাঁরা। স্থানীয়দের মতে, তাঁকে যদি স্থায়ীভাবে একটি ছোট্ট দোকানঘর বা ব্যবসায়িক সহায়তা দেওয়া হয়, তবে তাঁকে আর এভাবে হাটে-ঘাটে রোদে ঘুরে কষ্ট করতে হবে না। স্থায়ী দোকান পেলে তিনি আরও নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করে পরিবারের মুখে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারবেন।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আকুতির কথা জানিয়ে আয়াতুল্লাহ বলেন, “এভাবে ভ্যানে করে ঘুরে চলাফেরা করাটা বেশ অনিরাপদ ও কষ্টকর। যদি সরকারি বা বিত্তবানদের সহায়তায় একটি স্থায়ী দোকান পেতাম, তবে অনেকটা নিরাপদে থেকে আরও বেশি আয় করতে পারতাম।”
দুই হাত না থাকলেও মনের জোর আর কাজের প্রতি অদম্য নিষ্ঠা থাকলে যে জীবন জয় করা যায়, তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শিবগঞ্জের এই সংগ্রামী তরুণ আয়াতুল্লাহ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









