পাবনায় দুই লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় মো. সৈকত (২৮) নামের এক প্রাইভেটকার চালককে হাতুড়িপেটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাবনা পৌর এলাকার চক পৈলানপুর মাঠপাড়া এলাকার একটি চায়ের দোকানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সৈকতকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাবনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় আহত সৈকতের বাবা মো. আমিন উদ্দিন ড্রাইভার বাদী হয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন—ঘোষপুর এলাকার মো. বিজয় (২৮), চক পৈলানপুর মাঠপাড়ার মো. পারভেজ (২৪) এবং মো. নাহিদ (২৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পরিবারের পরিবহন ব্যবসা রয়েছে। অভিযুক্তরা কিছুদিন ধরে সৈকতের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন এবং চাঁদা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সৈকত চক পৈলানপুর মাঠপাড়ার একটি চায়ের দোকানে চা পান করার সময় অভিযুক্তরা ধারালো চাকু, লোহার হাতুড়ি ও পিস্তল নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিজয়ের নির্দেশে পারভেজ ও নাহিদ লোহার হাতুড়ি দিয়ে সৈকতের পাঁজরে আঘাত করেন। এ সময় বিজয় ধারালো চাকু দিয়ে তাঁর দুই পায়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন।
হামলার একপর্যায়ে বিজয় সৈকতের পকেটে থাকা ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এ সময় স্থানীয় রুবেল, হাফিজুল ও শাকিবসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পিস্তল উঁচিয়ে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









