“শুধু চারটি নয়, অসংখ্য প্রাণ ঝরছে রাস্তায়”—এই তীব্র ক্ষোভ ও স্লোগানকে সামনে রেখে নিরাপদ সড়কের চার দফা দাবিতে লালমনিরহাটের বুড়িমারী আনন্দ বাজার (ঘুন্টি) এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন আমানতুল্যা প্রধান স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্থানীয় সাধারণ এলাকাবাসী।
আজ রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বুড়িমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত ৪ দফা দাবিগুলো হলো:
১. দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সড়কটি চার লাইনে উন্নীতকরণ।
২. বেপরোয়া ড্রাইভিং ও অনিয়ন্ত্রিত ভারী গাড়ি চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করা।
৩. সড়কে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নত করা।
৪. ট্রাফিক আইনের যথাযথ ও পুরোপুরি প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
সরেজমিন দেখা যায়, সকাল ১০টার আগেই বুড়িমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মৌন মিছিল নিয়ে দুর্ঘটনার স্থান ঘুন্টি বাজার এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। সকাল ১০টার দিকে ঘুন্টি এলাকা থেকে খারিজা স্কুল পর্যন্ত কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সড়কের দুইপাশে দাঁড়িয়ে পড়েন। এদিকে নিরাপদ সড়কের এই কর্মসূচির খবর পেয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এতে সংহতি প্রকাশ করে যোগ দেন। একপর্যায়ে ঘুন্টি বাজার থেকে বেলতলী বাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
মানববন্ধন চলাকালে বুড়িমারী ঘুন্টি বাজারে বক্তব্য রাখেন আমানতুল্যা প্রধান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু কাওসার আলম, সহকারী শিক্ষক সুদর্শন রায়, বুড়িমারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ এস এম নিয়াজ নাহিদ, বুড়িমারী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এবং পাটগ্রাম বিসমিল্লাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল আকবার বিন আফসার প্রমুখ।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, তাঁরা চান এই চার দফা দাবির বাস্তবায়ন। সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় অসংখ্য তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে, যা আর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অতি দ্রুত নিরাপদ যাতায়াতের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পরে মানববন্ধনের আয়োজকদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, লালমনিরহাট সড়ক ও সওজ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর এই দাবিসংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনের একপর্যায়ে পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আমরাও আপনাদের বেদনা বুঝি, আমাদেরও পরিবার আছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মামলার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং তারা যেন ক্ষতিপূরণ ও সঠিক বিচার পায়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সার্বিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আজকের এই শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করার জন্য আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাই।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









