ভোলায় কালীবাড়িতে একই বাসায় দ্বিতীয়বারের মতন চুরির ঘটনা ঘটেছে। বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রব ভেঙে সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২২ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে শহরের কালীবাড়ি রোডের ভদ্রপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ নিয়ে একই বাসায় দ্বিতীয়বার চুরির ঘটনা ঘটল। এর আগে ৭ জানুয়ারিও ওই বাসায় চুরি হয়েছিল। কয়েক মাসের ব্যবধানে একই বাসায় ফের চুরির ঘটনায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে পরিবারটিতে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রবিবার সকালে ইমতিয়াজুর রহমান ও তার স্ত্রী সাবিয়া আকতার মিম অফিসের উদ্দেশে বাংলাবাজারে যান। বাসায় ছিলেন ইমতিয়াজুর রহমানের মা রোকেয়া বেগম। তিনি রান্নাসহ ঘরের কাজ শেষে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাশের বাসায় থাকা ভাইয়ের বাড়িতে যান। পৌনে ১টার দিকে নিজ বাসায় ফিরে দরজা খুলতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, দরজাটি ভেতর থেকে আটকানো। পেছনের দরজায় গিয়েও একই অবস্থা দেখতে পান তিনি। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলে আশপাশের লোকজনকে ডাকতে গেলে এ সময় পেছনের দরজা দিয়ে একজন ব্যক্তি বাসা থেকে বের হয়ে পালিয়ে যায় বলে দাবি করেন রোকেয়া বেগম।
পরে আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে দেখা যায়, ইমতিয়াজুর রহমানের কক্ষের দরজা ভাঙা। ভেতরে থাকা আলমারি ও ওয়ারড্রবের দরজাও ভাঙা এবং ঘরের মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আলমারিতে রাখা দুই জোড়া কানের দুল, চারটি সোনার আংটি—মোট সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার, এক জোড়া রুপার পায়েল, নগদ ২২ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে না।
ইমতিয়াজুর রহমানের স্ত্রী সাবিয়া আকতার মিম বলেন, বিয়ের সময় পাওয়া গহনাগুলো বাসাতেই রাখা ছিল। এর মধ্যে তার শখের গহনা ও জমানো নগদ টাকাও ছিল। চুরির ঘটনায় এসব হারিয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন।
ইমতিয়াজুর রহমান বলেন, এর আগেও জানুয়ারি মাসে একই বাসায় চুরি হয়েছিল। এবারও বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে চুরি হয়েছে। চোরেরা আগে থেকেই বাসাটির ওপর নজর রাখছিল বলে তার ধারণা। তিনি দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানান।
এ ঘটনায় রবিবার সন্ধ্যায় ভোলা সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এখন টিভির জেলা প্রতিনিধি ইমতিয়াজুর রহমান।
খবর পেয়ে ভোলা সদর মডেল থানার এসআই পলাশের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সাংবাদিকের বাসায় চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









