গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় স্কুলে যাওয়ার পথে এক শিক্ষিকাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে কবির শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কুশলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত কবির শেখ উপজেলার বিরামেরকান্দি গ্রামের সরোয়ার শেখের ছেলে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কবির তাকে নিয়মিত উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। কখনো পথরোধ, আবার কখনো পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে কবিরের পরিবার ও স্থানীয়দের জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি বাধ্য হয়ে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জণ ভক্ত জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কবির ও তার পরিবারের সদস্যদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। সে সময় কবির ওই শিক্ষিকাকে আর উত্ত্যক্ত করবেন না বলে মুচলেকা বা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
শিক্ষিকা জানান, সবকিছুর পরও রবিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে কবির পুনরায় তার পথরোধ করেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষিকার আত্মীয়স্বজন এগিয়ে এসে কবিরকে মারধর করেন। শিক্ষিকা বলেন, ‘উত্ত্যক্তের কারণে আমাকে ছুটিও নিতে হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসে আবেদন করেও প্রতিকার পাইনি। তবে তাকে যেভাবে মারা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
এদিকে আহত কবিরের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কবির মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। তার ভাতিজি জোসনা বেগম জানান, কবির আগে অটোরিকশা চালাতেন এবং ওই সময়েই শিক্ষিকার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর থেকেই তিনি তাকে বিয়ের জন্য অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। তবে তাকে এভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ডিউটি অফিসার এএসআই রাকিব হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









