নাটোরের লালপুরে এক তরুণীকে জোরপূর্বক অপহরণ, গণধর্ষণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং ভুয়া পুলিশ সেজে অর্থ দাবির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—লালপুর উপজেলার উত্তর লালপুর এলাকার আশিক জামান (২০), কাজল ইসলাম (১৯) এবং জোতদৈবকী এলাকার শাকিল ইসলাম বাদল (২৩)। এদের মধ্যে কাজল ও শাকিলের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর অভিযুক্ত আশিক ও কাজল ওই তরুণীকে গ্রীনভ্যালি পার্কে ঘুরানোর কথা বলে কৌশলে অপহরণ করেন। পরে তাকে জোতদৈবকী গ্রামে শাকিলের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আশিক, শাকিল ও কাজল মিলে ওই তরুণীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করেন এবং এই পৈশাচিকতার ভিডিও গোপনে ধারণ করে রাখেন শাকিল।
এ ঘটনার পর মেহেদী নামের অপর এক অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভিকটিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভিকটিমের কাছে আরও ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে লালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর লালপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইব্রাহিম খলিলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে সোমবার ভোরে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









