ঢাকার ধামরাইয়ে গত শনিবার (৩ অক্টোবর) বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাপনী সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারির ঘটনায় সুতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমাকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় মোট ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সুতিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫) বাদী হয়ে ধামরাই থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি সোহেল মাহমুদকে (যিনি সুতিপাড়া ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি এবং বালিথা গ্রামের মৃত সামাদের ছেলে) গ্রেপ্তার করেছে এবং আজ দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১১টার দিকে বাথুলী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ইসলামিয়া হোটেলের সামনে থেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগীদের কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বালিথা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হওয়ার পর সেখানে সমাপনী বক্তব্য চলছিল। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমার নেতৃত্বে কয়েকজন সেখানে এসে মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় সুতিপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম, যুবদল নেতা আব্দুল হালিম ও শ্রমিকদল নেতা শামীমসহ কয়েকজনকে লাঠি, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে শরীফুল ইসলামকে আরও মারধর করে দা দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় এবং ভবিষ্যতে বিএনপির মিছিল-মিটিং করলে পরিণতি ভালো হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমার মেয়ের জামাতা জাহিদুর ইসলাম বাবু এবং গুরুতর আহত বাবুল হোসেনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই সংঘর্ষের পরেই ইউপি চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমা ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিনকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। এর প্রেক্ষিতে গত রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন নিজস্ব কোল্ড স্টোরেজে সংবাদ সম্মেলন করে রোমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









