বাগেরহাটের রনজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি ও আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর মামলা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শেখর চন্দ্র দাস (এ্যাডভোকেট) বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক, দুদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯ সালে যোগদানের পর থেকে ১৬ অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ভূয়া ভাউচার তৈরি, মালামাল ক্রয় না করেই বিল উত্তোলন এবং বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব গোপন রেখে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন, বোর্ড থেকে বই ক্রয়ের অর্থ, স্থানীয় চেয়ারম্যানের অনুদান, উপজেলা পরিষদ ও বিভিন্ন দাতার দেওয়া অর্থ, এনজিও’র উন্নয়ন অনুদান, উপবৃত্তির টিউশন ফি, বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ও টিনসেড ঘর বিক্রির টাকা এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে উন্নয়নের নামে সংগৃহীত অর্থসহ বিভিন্ন খাত থেকে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
বিশেষ করে ২০২৪ সালে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের জন্য সরকার প্রদত্ত ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অবহিত না করে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং তারিখবিহীন ভূয়া ভাউচার দাখিলের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ সংক্রান্ত খবর জাতীয় দৈনিকেও প্রকাশিত হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
অভিযোগকারী অ্যাডভোকেট শেখর চন্দ্র দাস বলেন, জেলা শিক্ষা অফিস তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে দুদকে মামলা গ্রহণের আবেদন করেছি। দুদক অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তা পাওয়া যায়নি।
বাগেরহাট জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাঃ সাদেকুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে সূক্ষ্ম কারচুপিসহ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
কাওছার আল হাবীব/এদিন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









