কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সাধক লালন শাহ মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং জড়িয়ে থাকা দুষ্কৃতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা এনসিপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ ও এর আশপাশের এলাকায় সমবেত হয়ে এনসিপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করেন।
তবে পুলিশের বাধার মুখে পণ্ড হয়ে গেছে তাদের পূর্বনির্ধারিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচি। এ নিয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ও এনসিপি সূত্রের তথ্য মতে, এর আগে গত রবিবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ছেঁউড়িয়া লালন আখড়ায় আখড়াবাড়ি ও মাজার প্রাঙ্গণ পরিদর্শনে যান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পরিদর্শনের একপর্যায়ে মাজার এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় কতিপয় উগ্র ব্যক্তি ও দুষ্কৃতকারী তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে এবং চরম গালিগালাজ শুরু করে।
শুধু তাই নয়, একপর্যায়ে তাকে বহনকারী গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। এই হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ তার সঙ্গে থাকা অন্য নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকার পর খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
লালন আখড়ার এই ন্যাক্কারজনক ও পূর্বপরিকল্পিত হামলার কঠোর প্রতিবাদ জানাতে সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ ও এর আশপাশের এলাকায় সমবেত হন এনসিপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে মেইন গেট ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ শক্ত ব্যারিকেড তৈরি করে বাধা দেয়।
পুলিশি নিষেধাজ্ঞার কারণে মিছিলটি সামনে এগোতে না পারায় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচণ্ড অসন্তোষ দেখা দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পুলিশি বাধার মুখে সেখানে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন কুষ্টিয়া জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘‘আমাদের শীর্ষ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ছেঁউড়িয়ায় যে হামলা হয়েছে তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত ও হীন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। প্রকাশ্য দিবালোকে এই হামলা চালানো হলেও এখন পর্যন্ত প্রকৃত দোষীদের বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের রাজনৈতিক অধিকারে পুলিশ বাধা দিচ্ছে।’’
সুলতান মারুফ তালহা অবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘যদি অবিলম্বে এই ন্যক্কারজনক হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া হয়, তবে কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’’
অন্যদিকে, মিছিলে বাধা দেওয়ার বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং কুষ্টিয়া শহরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতেই ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো পক্ষকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে দেওয়া হবে না বলে জানান তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









